মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ফুটপাতে অভিযান
একদিকে উচ্ছেদ অন্যদিকে দখল
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৩ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

ঢাকা মহানগরীতে টানা পাঁচ দিন ধরে হকার উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত হলেও হকাররা সুযোগ বুঝে আবার বসে পড়ছেন। ঢাকার ফুটপাতগুলো কয়েক দিনের জন্য হলেও খালি থাকলেও, হকাররা সুযোগ বুঝে আবার ফিরে বসে পড়েছেন। 

রোববার সকালে বায়তুল মোকাররম, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল ও মতিঝিল এলাকার ফুটপাতে অভিযান চালানো হয়। দুপুরের পর ওই সব এলাকায় হকারদের আবার ব্যবসা করতে দেখা গেছে। একই পরিস্থিতি গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায়ও দেখা গেছে। বিগত কয়েকদিনের অভিযানে অনেক ফুটপাত ফাঁকা থাকলেও অনেকে আবার সুযোগ বুঝে বসে পড়েছেন।

অভিযানের খবর পেয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তরপাশের ফুটপাতে বসানো দোকানগুলো আগেই বন্ধ করে চলে যান অনেক ব্যবসায়ী। তবে কয়েকজন দোকানদার অবস্থান করেছেন। যারা ছিলেন, তারা অভিযান শুরু হলে দোকান ছেড়ে দেন। কিন্তু অভিযান শেষ হলে ফিরে এসে দোকান খুলে মালপত্র সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করেন।

এখানকার একাধিক হকার জানান, অভিযানের কারণে তারা স্বল্প পরিসরে দোকান চালাচ্ছেন। তবে অভিযান শেষ হলে পুরোপুরি ব্যবসা শুরু করবেন। কেউ কেউ মালপত্র গোছিয়ে রাখতেও দেখা গেছে। দৈনিক বাংলা এলাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সামনের ফুটপাতে এক ব্যবসায়ী বলেন, পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে না। শুনেছি আজই অভিযান শেষ। এখন শুনছি আরও কয়েকদিন অভিযান চলবে। এমন হলে ঠিকভাবে ব্যবসা করা যাবে না। তাই মালপত্র সরিয়ে বাড়ি চলে যাব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বসব।

নৈপথ্যে রাজনৈতিক মদদ ও শতকোটি টাকার চাঁদাবাজি : 

রাজধানীজুড়ে ভূমিখেকোর মতোই সড়ক ও ফুটপাতের দখল বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হাতে। আর দখলকারীদের আশ্রয় দিচ্ছে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। প্রতিমাসে শতকোটি টাকার চাঁদাও উঠছে অবৈধভাবে বসানো দোকান থেকে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের স্বদিচ্ছাই উপহার দিতে পারে ফুটপাত দখলমুক্ত বাংলাদেশ। যদিও জড়িতদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস সরকারের। নগরজুড়ে ফুটপাত ও সড়কে সারি সারি ছাতা আর ক্ষুদ্রবিপনী বিতানের চৌকির সাজসজ্জা। যেখানে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লালসায় চাপা পড়েছে মানুষের হাটার অধিকার। 

পথচারীরা জানান, ফুটপাতে দোকানের জন্য হাঁটাচলায় সমস্যা হয়। সরকার এ বিষয়ে দৃষ্টি না দিলে জনগণের ভোগান্তি শেষ হবে না।

বিভিন্ন গবেষণা, জরিপ ও বুয়েটের তথ্য বলছে, রাজধানীর প্রায় ৮০ শতাংশ ফুটপাতই দখলে। এসব ফুটপাতের বেশিরভাগই ব্যবহার হচ্ছে ব্যবসার কাজে। এছাড়া নির্মাণ সামগ্রী বা অবৈধ পার্কিংয়ের দখলেও আছে বেশ কিছু ফুটপাত ও সড়ক। এতে শহরের ৩৮ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। আর সড়কের ২৬ শতাংশ দুর্ঘটনাই যার প্রধান উৎস। এখন প্রশ্ন হলো ভয়াবহ এসব সংকটেও কাদের নেতৃত্বে দখল হচ্ছে ফুটপাত?

অনুসন্ধান বলছে, এসব ফুটপাতের বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকার সিন্ডিকেটের দখলে। আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে একটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এসব ফুটপাত থেকে দৈনিক চাঁদা উঠলেও এখন উঠছে মাসিক কিস্তিতে। প্রতি মাসে যার পরিমাণ শতকোটিরও বেশি। দোকানদাররা জানান, কেউ মাসিক চাঁদা তুলে আর কেউ প্রতিদিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুটপাত দখলের পেছনে সব থেকে বড় শক্তি এই রাজনীতি। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাও আছেন এর সঙ্গে। আর নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্প নয়, সংস্কারেই মনোযোগী হতে হবে সরকারকে।
 
ফুটপাতের প্রকৃত হকারদের তালিকা করে পুনর্বাসন কিংবা সরকারি সুবিধার আওতায় আনা যেতে পারে। আর দখলদারদের আনতে হবে আইনের আওতায়।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এটা কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা না। এটা একটা রাজনৈতিক সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করতে হবে রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে।’

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ফুটপাতের হকার এবং কারা কখন বসেছেন এটাকে যদি আমরা পরিকল্পনার মাধ্যমে চিহ্নিত করতে না পারি তাহলে হকারের সংখ্যাটা বাড়তেই থাকবে। ঢাকা তো সারা বাংলাদেশের হকারকে নিতে পারবে না।’

যদিও এখনি উচ্ছেদ নয় হকারদের ভিন্ন কর্মস্থলের বিষয়ে ভাবছে দায়িত্বরা। ঈদের পরেই ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস নগর প্রশাসকের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা সমস্ত অঙ্গনেই ট্র্যাশ প্রোগ্রাম চালাবো যাতে সবকিছু সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে হতে পারে।’

অভিযানে হলেও নেই অপরিকল্পিত উদ্যোগ : 

উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্বে থাকা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-ফয়সালের কাছে গণমাধ্যম জানতে চায়, ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা আবারও বসবে কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ অভিযান পরিচালনা করছি। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা হবে।’

এ সময় সড়ক ও ফুটপাত স্বাভাবিক রাখতে কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানাননি এ ম্যাজিস্ট্রেট।

এ ধরনের অপরিকল্পিত অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্যামলী এলাকার দোকানি ও পথচারীরা। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে মাঝেমধ্যে এমন অভিযান পরিচালনা করা হয়; কিন্তু এর কোনো সুফল মানুষ পায় না। সাময়িক অভিযান চালানো হলেও সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

রিং রোড এলাকার ব্যবসায়ী মো. বাশেত গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ অভিযানের ঘোষণা আগেই দিয়েছে। তাই অবৈধ স্থাপনা তেমন নেই; কিন্তু বিকালের পর এই রাস্তায় হাঁটা দায় হয়ে যায়। রাতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। কাজেই অভিযানের পর সেটির ধারাবাহিকতা রাখতে না পারলে কনো পরিবর্তন হবে না।

রিং রোড হয়ে নিয়মিত শেখেরটেকের বাসায় যাতায়াত করেন আসাদ হোসেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মস্থল মহাখালী। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর বেলা দুইটায় কথা হয় আসাদের সঙ্গে। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টা পার হয়নি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন; অথচ দেখেন কোনো চিহ্ন নেই। আগের মতোই রাস্তা দখল হয়ে আছে।’

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফুটপাতে অভিযান   উচ্ছেদ   দখল  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close