মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
গৌরনদী উপজেলায় সরকারি প্রকল্পে ঘুষের টাকা ভাগ হচ্ছে তিন স্তরে
মোল্লা ফারুক হাসান, গৌরনদী (বরিশাল)
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কাজ পেতে আগাম ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ পাওয়ার আগেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে ঠিকাদারদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই ঘুষ দিয়ে কাজ নিচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন প্রকল্পে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা আবাসন প্রকল্পে ৮ শতাংশ এবং টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বিল পাসের জন্য এজি অফিস ও সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অগ্রিম যোগসাজশের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অফিসের অফিস সহকারী শঙ্কর বড়াল মিলনের মাধ্যমে এসব ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয়। এমনকি তাকে অফিসে বসেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা গুনতে দেখা গেছে একটি ভিডিওতে। ওই ভিডিওতে তাকে টাকার বান্ডিল গুনতে এবং মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে ১০০ টাকার তিন বান্ডিল ও ১ হাজার টাকার একটি বান্ডিলসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার লেনদেনের দৃশ্য রয়েছে।

এছাড়া কাবিখা প্রকল্পের চাল ও গম সর্বনিম্ন দামে অফিস সহকারীর মাধ্যমে কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে পিআইও’র বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান, এসব ঘুষের টাকার ভাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট সহকারীরা পেয়ে থাকেন। আরও জানা গেছে, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্প সভাপতিদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিল উত্তোলন করা হয়। এ কাজে সংশ্লিষ্ট এক ইঞ্জিনিয়ার আলিমের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উপলক্ষে জিআর বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়ার পর চালের জিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টিই ভুয়া বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দে শুকনা খাবার, টিন ও কম্বল কেনার ক্ষেত্রেও ইউএনও ও পিআইও’র সমন্বয়ে নিম্নমানের পণ্য ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত অফিস সহকারী শঙ্কর বড়াল মিলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই ভিডিওটি আমার নয়, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।” 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গৌরনদী    উপজেলায    সরকারি    প্রকল্প    ঘুষ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close