বাস্তব জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত পরিদর্শন করেছেন সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ব্যবহারিক সেশনের অংশ হিসেবে আদালত পরিদর্শন করেন তারা।
এ সময় তারা মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এস. কে. এম. তোফায়েল হাসান ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল আসাদ মো. মাহমুদুল ইসলাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা প্রদান করেন। শিক্ষার্থীরা আদালতের বিভিন্ন এজলাস ঘুরে বিচার প্রক্রিয়া দেখেন।
পরিদর্শনে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, নিয়মিত আদালত পরিদর্শন তাত্ত্বিক জ্ঞানকে ব্যবহারিক ও বাস্তবিকভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এই চর্চা চালু থাকলে তা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
আইন বিভাগের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রানা হামিদ বলেন, ‘‘আদালত পরিদর্শনের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাইরে আদালতের বাস্তব কার্যপ্রণালি, প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। বিচারক ও আইনজীবীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আইনের বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে এই গভীর অন্তর্দৃষ্টি ভবিষ্যতে আইন পেশায় কাজে লাগবে বলে আশা করি।’’
আইন বিভাগের প্রভাষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধির নিমিত্তে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আদালত পরিদর্শন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থীরা আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ, বিচার প্রক্রিয়া, বিচারক ও আইনজীবীদের কার্যপ্রণালি সরেজমিনে দেখে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেছে। এই জ্ঞান তাদের কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’’
আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের বই পড়ে যে জ্ঞান অর্জন করে, তার বাস্তব ধারণা পায় আদালত পরিদর্শনের মাধ্যমে। এতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের মেলবন্ধন ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণে পদচারণার মধ্য দিয়ে নতুন জ্ঞান ও উপলব্ধির সঞ্চার হয়, যা পেশাগত অভিজ্ঞতার ভিত তৈরি করে।’’
আদালত পরিদর্শনে আইন বিভাগের ২৬তম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীসহ বিভাগের প্রভাষক কাউসার উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনে সার্বিক সহযোগিতা করেন সিনিয়র সিভিল জজ ফারদিন মুস্তাকিম তাসিন, সিভিল জজ রোজিনা আক্তার ও লিগ্যাল এইড অফিসার দুরাখসা জাহান প্রিয়াংকা।
কেকে/এসএ