মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
ধর্মমন্ত্রীকে নিয়ে থামেনি অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ দেশে ফেরার পর থেকেই নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। মুরাদনগর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।

এ ছাড়া গোমতীর চর থেকে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধে নেওয়া উদ্যোগ এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক বজায় রাখার কর্মকাণ্ডের মধ্যেও কিছু মহল ধর্মমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি স্বার্থান্বেসী মহল। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পান ধর্মমন্ত্রীর। শেখ হাসিনার শাসনামলে মিথ্যা মামলায় ছিলেন জর্জরিত। পরে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। এর পরপরই দেশে আসেন কায়কোবাদ। তিনি দেশে ফেরার পর থেকেই তাকে ঘিরে শুরু হয় নানা ধরনের অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র। যা ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পরও থেমে নেই। 

সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারে উদ্বেগ

মুরাদনগর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ উপজেলায় অন্তত পাঁচশরও বেশি নামসর্বস্ব ফেসবুক পেজ ও আইডি সক্রিয় রয়েছে। যেগুলো থেকে নিয়মিতভাবে ধর্মমন্ত্রীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব পেজ ও আইডি থেকে বুস্টিংয়ের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। 

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জামায়াতে ইসলামী মুরাদনগর উপজেলার কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার লোকজন এবং পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এসব আইডির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

এদিকে, এসব ফেসবুক পেজ ও আইডির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলার কথাও জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রীর লোকজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোমতীর চর রক্ষায় তৎপর কায়কোবাদ, তবুও অপপ্রচার!

কুমিল্লা দিয়ে বহমান গোমতী নদী। জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে শত শত ইটভাটা। দীর্ঘদিন ধরেই এসব ইটভাটায় ব্যবহৃত মাটির বড় একটি অংশ অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে নদীর চর থেকে। যা স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী শেখ হাসিনা সরকারের সময় থেকেই চলমান। বিশেষ করে দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার কিছু ইটভাটায় এখনো গোমতীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম বন্ধে তৎপরতা রয়েছেন কায়কোবাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার অনুসারীরা অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে।

তবে এ বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। নামসর্বস্ব কিছু ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে দাবি করা হচ্ছে, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে নাকি ধর্মমন্ত্রীর লোকজনই জড়িত। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মুরাদনগরের গোমতীর চর এলাকার বাসিন্দারা জানান, কায়কোবাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর আগের তুলনায় অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনা অনেকটাই কমেছে। তারা বলছেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের তৎপরতায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রীকে জড়িয়ে মন্দিরে আগুনের অপপ্রচার : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সুসম্পর্ক নষ্ট করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে তারই অংশ হিসেবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ধর্মমন্ত্রীকে জড়িয়ে মন্দিরে আগুনের অপপ্রচার করছে একটি মহল— সাম্প্রতিক একটি সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলার পূজা উদযাপন ফ্রন্ট।

কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দুলাল দেবনাথ, মুরাদনগর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যাপক দীন দয়াল পাল, সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ ঠাকুর বলেন, ধর্মমন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বাড়ির পাশে একটি মন্দির রয়েছে। মন্দিরের পাশে একটি বটবৃক্ষ আছে। যেখানে আমাদের ধর্মীয় রীতি অনুসারে মানত করা হয়। মানত শেষে কেউ কেউ সেখানে কাপড় পেঁচিয়ে যায়। আমাদের মুরাদনগরের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রাণের আশ্রয়স্থল কায়কোবাদ দাদার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ করতে কিছু ফেসবুক পেজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বটবৃক্ষের মাঝে আগুন ধরিয়ে সেটি নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। সেইসঙ্গে তারা মুরাদনগর থানা ও কায়কোবাদ দাদার ছবিসহ ভিডিও বানিয়ে হিন্দু ও মুসলিমদের মাঝে একটি ভীতির পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছে। গত পঁচিশ বছর আমরা তার ছায়াতলে ছিলাম। এ ছাড়া গত ১৮-২০ মাস তিনি আমাদের হিন্দুদের যেভাবে আশ্রয় দিয়ে রেখেছেন, আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করেছি। বিগত অনেক বছর ধরে কায়কোবাদ দাদাকে হেয় করার অনেক পরিকল্পনা স্বৈরাচার বাহিনী করেছে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের অনেকগুলোই সুস্পষ্ট প্রমাণবিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কায়কোবাদের বিরুদ্ধে কাজ করা একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ধর্মমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ধর্মমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করছে, একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। মন্ত্রীর চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করতেই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, নামসর্বস্ব ফেসবুক পেজ ও আইডি বিষয়গুলোকে আমরা অতি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  ধর্মমন্ত্রী   অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close