মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
প্রশাসক ও সচিবের অনিয়মিত উপস্থিতি, ভোগান্তিতে বৌলাই ইউনিয়নবাসী
সাব্বির হোসেন, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, বিভিন্ন ভাতার আবেদন এবং জমিজমা সংক্রান্ত জরুরি সেবা নিতে এসে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নবাসীকে। প্রশাসক ও সচিবের অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত ও সালিস ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সচিবকে মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও প্রশাসকের কক্ষে ঝুলতে দেখা যায় তালা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দায়িত্বরত কর্মচারীরাও জানান, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণে তারাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বৌলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আওলাদ হোসেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে পদত্যাগ করেছিলেন। পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আর উপনির্বাচন হয়নি। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন নাগরিক সেবা সচল রাখতে মো. মোজাম্মেল হককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। 

ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে নির্বাচিত কোনো চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসক ও সচিবের ওপরই পুরো দায়িত্ব থাকলেও তারা ইচ্ছেমতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে নাগরিক সেবায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বৌলাই ইউনিয়নের পুঁথিপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার নামে এক নারী বলেন, ‘পরিষদের চেয়ারম্যান নেই। দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসক। তিনিও নিয়মিত আসেন না। সচিবের দায়িত্বে যিনি আছেন, তিনিও সময় মতো আসছে না। এ কারণে ভাতার আবেদন করতে পারিনা। 

শুধু নাজমা আক্তার নয়, তার মতো অনেকেই পরিষদের নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এতে নাগরিক সেবায় ভোগান্তি বেড়েছে।

বৌলাই ইউনিয়নের রঘুনন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসান আল মামুন বলেন, ‘আমার একটি জন্মনিবন্ধনের আবেদন অনলাইনে পড়ে আছে ৫-৬ মাস ধরে। অথচ আজ পর্যন্ত তা সমাধান হয়নি। নাগরিক সেবা যদি না-ই পাওয়া যায়, তবে এই ইউনিয়ন পরিষদ বা প্রশাসক দিয়ে আমাদের লাভ কী? উনারা দায়িত্ব পালন করতে পারলে সঠিকভাবে করুন, নাহয় পদ ছেড়ে দেক।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে বৌলাই ডিগ্রিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘পিতার নামে ছোট একটি ভুলের কারণে গত তিন মাস ধরে আমি চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছি। ভুলটি সংশোধনের জন্য যখন প্রশাসকের কাছে যাই, তিনি আমাকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী আমি প্রথমে সংশোধনের আবেদন করি, এরপর নতুন করে নিবন্ধন করি, এমনকি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইমাম সাহেবের স্বাক্ষরসহ ফরমও জমা দেই। কিন্তু বারবারই কোনো না কোনো অজুহাতে আমার আবেদন বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন,​‘পরবর্তীতে ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং জমির দলিল চাওয়ায় আমি সেগুলোও জমা দিই। তখন সব ঠিক আছে বলা হলেও, গত তিন সপ্তাহ ধরে আমাকে সার্ভার সমস্যার অজুহাতে অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। এখন আমাকে বলা হচ্ছে নিবন্ধনের পরিবর্তে প্রত্যয়নপত্র নিতে। আমার প্রয়োজন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, কারণ এটি ছাড়া নির্বাচন অফিসে আইডি কার্ড ঠিক করা সম্ভব নয়। আমি প্রত্যয়ন নিতে আসিনি, আমার ন্যায্য সেবা নিতে এসেছি। প্রশাসনের এই টালবাহানায় আমি বর্তমানে দিশেহারা।’

স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘নতুন প্রশাসক এবং সচিব যোগদানের পর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাঁরা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন এবং দাপ্তরিক সময়ের কোনো তোয়াক্কা করছেন না। ফলে জন্ম নিবন্ধন, ভাতার আবেদন কিংবা জমিজমা সংক্রান্ত জরুরি নাগরিক সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। যে কাজ একদিনে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব, তা সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঝুলে থাকছে।’

নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসকের সপ্তাহে দুই দিন (সোমবার ও বুধবার) উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি অনেক ক্ষেত্রে এক দিনও অফিসে আসেন না। আসলেও দুপুর ১২টা বা ২টার আগে তার দেখা মেলে না। বিশেষ করে জন্ম নিবন্ধনের ফাইলগুলো তিনি দীর্ঘ সময় জমিয়ে রেখে তারপর অনুমোদন দেন, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা মইনুল হোসেন মেনু বলেন,​সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান প্রশাসক নিয়মমাফিক অফিস করেন না; বরং নিজের খেয়ালখুশি মতো আসা-যাওয়া করেন। সকাল ১০টায় উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি বিকেলে এসে শুধু স্বাক্ষর করে চলে যান। এমনকি সচিবের সাথে যোগসাজশ করে তারা একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। কোনো কাজের জন্য সরাসরি আবেদন করলে গুরুত্ব পাওয়া যায় না, অথচ ‘হাদিয়া’ বা অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কথা বললে কাজ দ্রুত হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের কথা শোনার কেউ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, প্রশাসকের অনুপস্থিতির কারণে বহু ফাইল স্বাক্ষরহীন পড়ে থাকছে, এতে সেবা নিতে আসা মানুষ ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নুরুন্নেছা খানম বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি সেবা দিতে। প্রশাসক অফিসের বাইরে মিটিংসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। কিছুটা দেরি হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার অনুরোধ জানাই। তবে তিনি এও জানান প্রশাসক ও তার মধ্যে বুঝাপড়ার সমস্যা রয়েছে। কারণ প্রশাসক হলো সরকারের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তা নির্বাচিত তিনি নির্বাচিত নয়। তার দায়বদ্ধতাও জনগণের প্রতি কম।’

এ বিষয়ে প্রশাসক মো. মোজাম্মেল হকের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি মিটিং শেষে অফিসে আসছেন। তবে এক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তার দেখা মেলেনি।’

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, প্রশাসকের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে প্রশাসক সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত অফিস করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close