পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের ও পোড়া ইটের খোয়া ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার তা মানছেন না।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক থেকে নিম্নমানের সামগ্রী সরানো হয়নি বলে এলাকাবাসীর দাবি। সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা এলজিইডির অধীনে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভেড়ামারা বাজার থেকে হাটগ্রাম পর্যন্ত ৩৫৭৬ মিটার সড়ক সংস্কারের কাজ পান কুষ্টিয়ার সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তবে কাজটি দেখভাল করছেন পাবনার একটি সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিদর্শনের পরে নিম্নমানের খোয়ার সঙ্গে কিছু ভালো খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এমনকি এই কাজ তদারকির জন্য অফিসের একজন কর্মচারীর দেখা মিললেও কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ও পোড়া ইটের খোয়া ব্যবহার করে সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিক অভিযোগ করা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ-পাবনা অঞ্চলের এলজিইডি ডেপুটি ডিরেক্টর মমিন মজিবুল হক সম্প্রতি কাজটি পরিদর্শন করেন।এ সময় তিনি এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঠিকাদারের লোকজনকে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার পরেও নিম্নমানের ইটের খোয়া বিছিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-পাবনার প্রকৌশল বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মমিন মজিবুল হক বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের তা সরিয়ে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম জানান, জেলা এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হয়েছে। এখনো ওয়ার্ক অর্ডার পাইনি। তবে ডেপুটি ডিরেক্টর সম্প্রতি কাজটি পরিদর্শন করে কয়েকটি ত্রুটি চিহ্নিত করেছেন। সেসব ত্রুটি অপসারণ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাবনার সাব-ঠিকাদার রুবেল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কেকে/এলএ