গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নে ডাকাত দলের হামলায় আছমা আক্তার (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ডাকাতির কাজে বাঁধা প্রদান করলে বউ শ্বাশুড়িকে মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নেয় ডাকাত দল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়দেবপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার কর।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নিহত আছমা আক্তার সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়ন মধ্যপাড়া গ্রামের মো. আনিছুর রহমানের স্ত্রী।
পুত্রবধূ আরিফা আক্তার বলেন, “রাত আনুমানিক ২টার দিকে শ্বাশুড়ির ডাক চিৎকারে ঘুম ভাঙে। দৌড়ে এসে ৬ থেকে ৮ জনের একটি ডাকাত দল বাড়িতে হামলা করে। এসময় বাড়ির ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে কয়েকজন। ঘরে প্রবেশ করে ভয়ভীতি হুমকি দিয়ে আমাকে বেধে ফেলে। শ্বাশুড়ি আছমা আক্তার এসময় হৈচৈ শুরু করলে ডাকাত দলের সদস্যরা তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে আঘাত করে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখে।”
তিনি আরও জানান, ডাকাত দলের সদস্যরা তাদের চোখের সামনে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ওঁদের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। সবার হাতে লম্বা লম্বা চাপাতি ছিল। আমাদের অনেক মারধর করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি লাথিও মারে, পরবর্তীতে শ্বাশুড়ি অজ্ঞান হয়ে যায়।
নিহতের ছেলে মো. নাজমুল সাকিব বলেন, “রাত সাড়ে ৯টার দিকে কর্মস্থলে চলে যায়। সকাল সাতটার দিকে বাড়িতে এসে মায়ের মরদেহ দেখতে পায়। স্ত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে, পরবর্তীতে স্ত্রী আরিফাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে সবকিছু জানতে পারি।”
নিহতের স্বামী আনিছুর রহমান বলেন, “স্থানীয় একটি স্কুলে নিরাপত্তার প্রহরী হিসেবে কাজ করি। সকালে খবর পাই, স্ত্রীকে ডাকাত দল মেরে ফেলেছে। দৌড়ে এসে দেখি ছেলের বউকে শক্ত করে বেধে রাখছে। স্ত্রীকে গামছা পেঁচিয়ে মেরে ফেলছে। ঘরে রাখা সাড়ে তিন লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে যায়।”
জয়দেবপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার কর বলেন, “ডাকাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এবিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
কেকে/এলএ