নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সংঘটিত নয়ন মিয়া (৩০) হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর অবশেষে এর মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামি মো. কামাল হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে ফতুল্লা থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (ডিএনডি) সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাসেদ।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা থানাধীন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (ডিএনডি) সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে সোনারগাঁ উপজেলার মারবদী এলাকার নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নয়ন মিয়া। পরদিন সকালে সাজাদের কান্দি এলাকায় একটি জমির পাশে রাস্তার ঢাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলম বেপারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মেম্বার প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে নয়ন মিয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার রাতে কান্দাপাড়া-মারবদী সড়কে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৪-১৫ জন মিলে নয়ন মিয়াকে মারধর করে। পরে তার হাত-পা চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে একটি ডোবায় ফেলে রাখা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত কামাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাসেদ বলেন, ‘‘এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’’
কেকে/এসএ