মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বহুমুখী কৌশলে জামায়াত
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বহুমুখী কৌশলে মাঠে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার শুধু নিজেদের ভোট ধরে রাখাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ভোটব্যাংকেও বিভাজন ঘটিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েছে। 

ফলে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি ‘ডামি’ প্রার্থী মাঠে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও বিএনপির সমর্থক ভোট বিভক্ত করতে কাজ করবে। 

বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একজন মূল প্রার্থীকে কেন্দ্র করে মাঠে থাকবে।
 
পাশাপাশি স্বতন্ত্র পরিচয়ে আরও কয়েকজন প্রার্থী নামানো হতে পারে। যদিও এ প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের লক্ষ্য-প্রতিপক্ষের ভোট বিভক্ত করা। বিশেষ করে এই ‘ডামি’ প্রার্থীদের মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপির সমর্থক ভোটারদের বিভ্রান্ত করা। যাতে দলটির মূল প্রার্থী তুলনামূলকভাবে কম ভোট পেলেও এগিয়ে থাকার সুযোগ পায়।

বিএনপির ভোটব্যাংকেও সরাসরি আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিএনপি শক্ত অবস্থানে আছে, সেসব এলাকাকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে। 

একই সঙ্গে নিজেদের ভোটব্যাংক ধরে রাখাতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে সক্রিয় করতে দলটি ইতোমধ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক, কর্মী সমাবেশ, ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

দলটির নেতারা মনে করছেন, নিজেদের ভোটব্যাংক ধরে রেখে এবং প্রতিপক্ষের ভোটে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারলে নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া সহজ হবে। অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ইতোমধ্যেই নিজেদের এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা নিয়মিত গণসংযোগ করছেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার আলোকে ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার কারণে জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল জামায়াতসহ বিভিন্ন দল। তবে বিএনপির বিরোধিতায় অন্তর্বর্তী সরকার সেই দাবিকে গ্রহণ করেনি। 

স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল, কিন্তু বিভিন্ন পদে প্রশাসক নিয়োগের কারণে সেই আশা ভঙ্গ হচ্ছে। বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত জানিয়েছে, সরকার গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করে দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এটা সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করে দলটি দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। 

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন একক দলগতভাবে প্রার্থী ঠিক করা হবে। পরে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।

তিনি আরও জানান, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তীতে আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। সেভাবে আমাদের প্রস্তুতিও নেওয়া শুরু হয়েছিল। সে প্রস্তুতির সঙ্গে যোগ-বিয়োগ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বহুমুখী কৌশল   জামায়াত   
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close