রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: তরুণদের প্রশিক্ষণ দিতে ৬৮৩ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প সরকারের      প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি      সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      
প্রিয় ক্যাম্পাস
স্বীকৃতি স্বরূপ পেলেন অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স
ছয় বছরে একটিও ক্লাস মিস করেননি চবির ইসহাক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম আপডেট: ০৯.০৪.২০২৬ ৭:১৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান ইসহাক এক অনন্য উচ্চতা স্পর্শ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় বছরের একাডেমিক জীবনে একটি ক্লাসও মিস না করে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন তিনি। এই বিরল ও অসাধারণ শৃঙ্খলার স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি বিভাগ থেকে তাকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।

নাজমুল হাসান ইসহাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-২০১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি পাঁচ বছরের ব্যাচেলর অব ফার্মেসি (প্রফেশনাল) এবং এক বছরের মাস্টার অব ফার্মেসি (থিসিস)—এই দীর্ঘ ছয় বছরে প্রতিটি কর্মদিবসে ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন। তার এই নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতির হার প্রতিটি বর্ষেই ছিল শতভাগ, যা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এক বিরল দৃষ্টান্ত।

ইসহাক জানান, ছোটবেলা থেকেই ক্লাসে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি ছিলেন আপসহীন। প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি। 

তিনি বলেন, “ক্লাসে উপস্থিত থাকা আমার কাছে শুধু একটি নিয়ম নয়, বরং এটি দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা এবং শেখার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।”

মাধ্যমিক জীবনে তার একটি ব্যতিক্রমী স্মৃতি রয়েছে। একবার ‘রোজোলা’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে টানা তিন দিন স্কুলে যেতে পারেননি তিনি। তার মতো নিয়মিত শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে প্রধান শিক্ষক স্বয়ং একজন সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ইসহাকের বাড়িতে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনাই প্রমাণ করে, শৈশব থেকেই তিনি কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি দায়িত্বশীল প্রতিনিধিও ছিলেন। তৃতীয় বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত টানা চার বছর তিনি ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

তিনি মনে করেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার জন্য নিয়মিত ক্লাসের কোনো বিকল্প নেই।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ফার্মেসি বিভাগে আয়োজিত মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. এস এম. মোয়াজ্জেম হোসেনের (নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. তানজিনা সুলতানা নিপুণের উপস্থিতিতে) হাত থেকে তিনি সম্মাননার ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। 

অনুষ্ঠানে বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর কামরুল হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত শিক্ষকগণ ইসহাকের এই অভাবনীয় একাগ্রতার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

নাজমুল হাসান ইসহাক এই অর্জনের জন্য তার শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তার এই অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার গল্প বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

কেকে/এসএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ক্লাস    চবি    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close