দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দরের চেয়েও বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাজারে দেখা গেছে, কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯৫০ টাকায়, কোথাও দুই হাজার টাকায়, কোথাও আবার দুই হাজার ১০০ টাকায়।
এলপিজির দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। গত ২ এপ্রিল বিকালে এই নতুন দর ঘোষণা করা হয়, যা সেদিন সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়।
ভোক্তারা বলছেন, ‘এপ্রিলের শুরুতেই সরকার বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। তার ওপর দোকানদাররা আরও বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।’
অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো নজরদারি বা অভিযান চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ তাদের।
ভোক্তাদের দাবি, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে।
গ্যাস কিনতে এসে ভোগান্তির কথা জানিয়ে আতাউর রহমান বলেন, ‘রান্নার গ্যাস ছাড়া চলার কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়েই বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।’
একই ধরনের অভিযোগ করেন আরেক ক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘এভাবে দাম বাড়লে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে যাবে। সরকার দাম বাড়ালেও দোকানদাররা আরও বাড়িয়ে দেয়। গ্যাস ছাড়া রান্নাবান্না অসম্ভব। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দরকার।’
এদিকে, কয়েকজন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রেতা দাবি করেন, কোম্পানি পর্যায়েই তারা বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়েই ভোক্তা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, দিনাজপুর জেলা সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছে জানলাম। খুব শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।’
দেশের সব ব্যবসায়ীকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অনুরোধ জানিয়েছেন এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক। একই সঙ্গে, নির্ধারিত দামের বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব বলেন।
ভোক্তাদের প্রত্যাশা, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ।
কেকে/এমএ