বিনামূল্যে সরকারের দেওয়া টিফিনের খাবার খেয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলার খেয়েদারীপুরের অন্তত ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করে সমতা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এ ঘটনায় পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা, জামিলা, রাহিমা, মীম ও চতুর্থ শ্রেণির রাবেয়া ও তাবাসসুমকে পেটে ব্যথায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।
আক্রান্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী বলেন, ‘বুধবার বিকাল পর্যন্ত আমরা ৫টি বিদ্যালয়ের তথ্য পেয়েছি। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও ডিম খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষার্থী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় খাবার সরবরাহকারী ডিলারদের সতর্ক করা হয়।'
‘এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছ। তারা তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিবেন। পরে দোষীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে সমতা ট্রেডার্সের অপারেশন ম্যানেজার এএফএম আহাসানুল হাবিব বলেন, ‘জেলার ৫টি উপজেলার ৭২৩টি বিদ্যালয়ের ৮৯ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন টিফিন দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সমস্যা হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে যারা অসুস্থ ছিলো, তারা সুস্থ হয়েছে। আগামীতে সচেতন থাকা হবে।’
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘এই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে ৫ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
একটি চিঠিতে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার। ইতোমধ্যে পোকরারচর, রাজারচর, হাউজদি, করদি, ঝিকরহাটি, পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কেকে/এমএ