মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জ্বালানি মজুতে স্বস্তিতে সরকার, আতঙ্ক কাটছে না জনমনে
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৮ এএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে একদিকে যেমন স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে সরকার, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুরোপুরি কাটেনি উদ্বেগ। 

সরকারি তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং স্বল্পমেয়াদে সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা, আমদানিনির্ভরতা এবং সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা জনমনে শঙ্কা জিইয়ে রেখেছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, দেশে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন ডিজেল, ১৬ হাজার ৮১২ টন পেট্রোল এবং ৯ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন মজুত রয়েছে, যা বর্তমান চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্যানিক বায়িং এখনো পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি তিনি জানান, সরকার আগামী দুই মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে, ফলে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে অন্তত কয়েক মাসের জন্য সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং আমদানি কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়, বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানো, আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজারে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর আগে সংকটের সময় জ্বালানি তেলের রেশনিং চালু করা হলেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তা তুলে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সরবরাহে ঘাটতি না পড়ে।

এ ছাড়া এলএনজি আমদানি সমন্বয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝোঁক বাড়ানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত করতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ চালুর পাইলট কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কিউআর কোডভিত্তিক এ ডিজিটাল সিস্টেম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। বৃহস্পতিবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

প্রাথমিকভাবে অ্যাপটি শুধু মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন (তেজগাঁও) ও সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন (আসাদগেট) চালু করা হয়েছে। পাইলট সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বর্তমান ম্যানুয়াল ব্যবস্থার কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্ব, বিশৃঙ্খলা ও অপব্যবহার বাড়ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার জ্বালানি সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যা পুরো বিতরণ প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনবে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ৮ এপ্রিল সারা দেশে ৩৬১টি অভিযানে ১,৩৬২ লিটার অবৈধ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ১৯২টি মামলা দায়ের, ২ জনকে কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর ৩ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭,৩৪২টি অভিযানে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে ৩,০১১টি মামলা, ৩৬ জনের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ জ্বালানি সংকট, ফিলিং স্টেশনে লাইন এবং মূল্যবৃদ্ধির অভিজ্ঞতা মানুষের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গুজব, কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই আগেভাগে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তাদের মতে, স্বল্পমেয়াদে বড় সংকটের আশঙ্কা না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে বা সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হলে বাংলাদেশ বড় ধরনের জ্বালানি চাপে পড়তে পারে। তাই এখনই বিকল্প জ্বালানি, দেশীয় উৎস উন্নয়ন এবং আমদানির ঝুঁকি কমানোর ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন কমছে না। বিশেষ করে বিজয় সরণি এলাকায় অবস্থিত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভোররাত থেকেই যানবাহনের সারি চোখে পড়েছে। অনেক চালক ভোর ৫টা, এমনকি রাত ৩টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দ্রুত তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় তাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না, ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

পাম্পে অপেক্ষমাণ চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অনেকেই গাড়িতে বসেই সকালের নাশতা কিংবা দুপুরের খাবার সারতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করে পুনরায় লাইনে ফিরে এসেছেন, শুধু জ্বালানি সংগ্রহের জন্য।

দেখা গেছে, যারা ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তারা বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে তেল পাচ্ছেন। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ অপেক্ষার পর মিলছে কাক্সিক্ষত জ্বালানি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাবেই এ সংকট তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  জ্বালানি   মজুত   স্বস্তি   সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close