জয়পুরহাটে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন আরিফ ও হাসপাতালের কর্মচারী শিহাবের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষের ২টি মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা যায়, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জয়পুরহাট সদর উপজেলার নারায়ন পাড়া এলাকার রোগী এরফান আলীর ছেলে, জজ কোর্টের ড্রাইভার আরিফসহ তার পরিবারের সদস্যরা লিফটের তৃতীয় তলায় যাওয়ার জন্য হাসপাতালের লিফটে ওঠেন।
এ সময় লিফটের দায়িত্বে থাকা অপারেটর শিহাব বলেন, “কারিগরি ত্রুটির কারণে তৃতীয় তলায় লিফট থামবে না। এরপরও রোগী এরফান, তার ছেলে আরিফসহ অন্য সদস্যরা লিফটে ওঠেন। এ সময় শিহাব ও আরিফের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে লিফটের মধ্যেই তাদের ও অন্য রোগীর লোকজনের সঙ্গে মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হন। পরে উভয় পক্ষ থানায় মামলা করলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।”
এরপর হাসপাতালের কর্মচারীরা কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও দ্রুত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার ২৫০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে হাসপাতালের কর্মচারীরা বলেন, দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না করলে তারা কর্মবিরতি পালনসহ পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্মচারী আব্দুল খালেক, শিরিন শিলা, শিরি খাতুনসহ অনেকে বলেন, “হাসপাতালে এভাবে যদি হামলা করা হয়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা থাকবে না। আমরা রোগীদের সেবা কীভাবে দেব? আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত আমাদের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করলে আমরা কর্মবিরতি পালনসহ বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেব।”
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আহত কর্মচারী শিহাব বলেন, “তিন তলার লিফট বন্ধ থাকবে বলেছি, তার পরও জোরপূর্বক লিফটে ওঠেন ড্রাইভার আরিফ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন। এরপর লিফট সাত তলায় যেতে শুরু করলে লিফটের মধ্যেই আমাকে মারধর করা হয়। এ সময় লিফটে থাকা অন্যান্য লোকজন বাধা দিলে আমার ও সাধারণ রোগীর লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এরপর থানায় আমাদের নামে মামলা করা হয়েছে। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
আহত ড্রাইভার আরিফ হোসেন বলেন, “হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা নিতে এসে কর্মচারীদের এমন দুর্ব্যবহার ও তাদের হাতে মারধরের শিকার হয়ে আমরাই রোগী হয়ে গেছি। তাহলে আমরা কোথায় যাব, আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? থানায় আমি মামলা করেছি সুষ্ঠু বিচারের জন্য। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।”
২৫০ শয্যার জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, “লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “হাসপাতালের লিফটে ওঠাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পৃথকভাবে দুইটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/এলএ