কালাইয়ে অবৈধভাবে মজুদের পর ৮০ লিটার তেল কালোবাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে দুইজনকে আটক করেছে উত্তেজিত জনতা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বিয়ালা বাজারের অদূরে বিয়ালা-মাত্রাই সড়কে ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ৮০ লিটার তেলের মধ্যে প্রায় ৬০ লিটার তেল হরিলুট হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরে জনতার হাতে আটক দুইজনকে তেলসহ একটি প্লাস্টিকের জারকিন পুলিশ উদ্ধার করে।
আটককৃতরা হলেন, জেলার কালাই উপজেলার সিলিমপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে শাকিল হাসান (২২) এবং একই উপজেলার হিমাইল গ্রামের মাহে আলমের ছেলে সাজাদুল ইসলাম (২৮)।
উত্তেজিত জনতা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আটককৃতরা একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের জারকিনে করে প্রায় ৮০ লিটার তেল কালোবাজারে বিক্রির জন্য ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের কাছে ওই জারকিন দেখে সন্দেহ হলে উত্তেজিত জনতা ভ্যানটির গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এক পর্যায়ে জারকিনের মুখ খুলে দেখা যায়, অবৈধভাবে সংগ্রহকৃত মজুদ তেল কালোবাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
এদিকে আটক জারকিনে থাকা ৮০ লিটার তেলের মধ্যে প্রায় ৬০ লিটার তেল উত্তেজিত জনতা নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাতে আটক দুইজনসহ তেলের জারকিন উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসে নিয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ধারায় তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে তাদের এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত জ্বালানি পেট্রোল কন্টেইনারসহ জব্দ করা হয়।
উত্তেজিত জনতা ও স্থানীয় বলি-শিবসমুদ্র গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “আটককৃত দুজন বেশ কিছুদিন যাবৎ এলাকার বিভিন্ন পাম্প থেকে মোটরসাইকেলে তেল সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুদ করছিলেন। পরে তারা এভাবে জারকিনে করে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করতেন। আজ তাদের জারকিনসহ জনতা আটক করেছে। তাদের সঙ্গে এলাকার আরও কয়েকজন জড়িত আছে। তাদের গ্রেপ্তার করলে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।”
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা বলেন, “আজ উত্তেজিত জনতা দুইজনকে আটক করেছে। তাদের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
কেকে/এলএ