কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির পর সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল শিশু জান্নাত (৮)। পেছন থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে এক নারী এসে তার মায়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাকে তুলে নেয়। সহপাঠীরা সবাই বাড়ি ফিরলেও ফিরেনি জান্নাত।
কয়েক ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও জান্নাত বাড়ি না ফেরায় দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবারের সদস্যরা। জান্নাতের সহপাঠীরা জানায়, দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় ছুটির পর তিন সহপাঠী বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ একটি সিএনজি অটোরিকশা এসে তাদের সামনে দাঁড়ায়।
এরপর বোরকা পরা এক নারী সিএনজি থেকে জান্নাতকে ডেকে বলেন, “বাড়ি যাবে? আসো, আমি তোমার আম্মার বান্ধবী। তোমাদের বাড়িতে যাচ্ছি।” জান্নাত প্রথমে উঠতে রাজি না হলে ওই নারী একটি ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, “তোমার জন্য দেখ কত কিছু কিনে এনেছি। এসো, আম্মু।” এরপর জান্নাত ওই সিএনজিতে উঠে।
জান্নাত কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট আলীর মোড় সংলগ্ন সফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে তার নানা তাজুল ইসলামের বাড়িতে থেকে ছায়কোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতকে ছায়কোট এলাকা থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল ও পায়ে থাকা রূপার নুপুর খুলে নিয়ে ছায়কোট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বরকইট বাজার সংলগ্ন একটি স্থানে তাকে ছেড়ে দেয় ছিনতাইকারী চক্র।
প্রত্যক্ষদর্শী সারওয়ার সোহেল জানান, মেয়েটিকে রাস্তার পাশে কান্না করতে দেখে স্থানীয়রা তার সঙ্গে কথা বলে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছে তুলে দেয়। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের এলাকায় শিশুদের অপহরণ করে স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিচ্ছে।
শিশু জান্নাতের নানা তাজুল ইসলাম জানান, সহপাঠীদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। বিকাল ৩টার দিকে বরকইট এলাকা থেকে ফোনে জানতে পারি আমার নাতনি সেখানে আছে। আমরা দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করি।
এ বিষয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, চক্রটি কয়েক মাস ধরে আশপাশের এলাকায় অপকর্ম করে আসছে। তদন্ত করে দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
কেকে/এলএ