মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
গণতন্ত্র নস্যাতের গোপন মিশনে এনসিপি-শিবির
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের এক মাসও হয়নি। এর মধ্যেই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা। একই সুরে কথা বলছে ছাত্রশিবিরও। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এনসিপি-শিবির কি একটি নির্বাচিত সরকারকে হটানোর পরিস্থিতি তৈরি করার কোনো গোপন মিশনে নেমেছে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকবেই। এ নিয়ে বিরোধীরা সরকারের সমালোচনাসহ নানা গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানাবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু যে সরকারের বয়স দুই মাসও হয়নি, সেই সরকারকে হটানোর হুমকি-ধমকি শঙ্কার বিষয়। এটি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে না।

তারা বলছেন, জনগণ একটি সরকারকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করে। এ পাঁচ বছরে সরকারের কাজের মূল্যায়ন করে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে। সে জায়গায় শুরুতেই সরকার পতনের হুমকি-ধমকি ভিন্ন কিছু ইঙ্গিত দেয়।

গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই রাজনীতির মাঠে সরকারকে জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটবিরোধী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে। অসংলগ্ন তথ্য দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের অপশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর টানা লড়াই করা দলটিকেই এখন ফ্যাসিবাদী ট্যাগ দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। বিএনপিকে পতিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিএনপির বিরুদ্ধে আরেকটি অভ্যুত্থান হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে এনসিপির নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণভোটের রায় না মানা হলে এই (বিএনপি) সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া এনসিপির নেতাদের সুরেই কথা বলছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ছাত্রশিবিরের নেতারাও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কথায় কথায় একটি অভ্যুত্থানের হুমকি দেওয়া সরকারের বিরুদ্ধে গভীর এক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে এনসিপি ও ছাত্রশিবিরের নেতারা অপ্রাসঙ্গিকভাবে আকার-ইঙ্গিতে সরকার পতনের কথা বলছেন। অথচ সরকার পতনের বিষয়টি ছাত্রনেতাদের বিষয় নয়। ডাকসুর ভিপি হিসেবে ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েম ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলবেন, কিন্তু সে ভূমিকায় তাকে দেখা যায় না। তিনি অবিরত জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন এবং তাদের হয়ে সরকারবিরোধী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিবিরের অন্য নেতারাও ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করার চেয়ে সরকারের বিরুদ্ধেই বেশি সরব থাকছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিবির ও এনসিপির নেতারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। নানাভাবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা ক্ষমতা চর্চা করেছেন। কিন্তু নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সময়ে এসে তারা আর তা করতে পারছেন না। আর এ কারণেই এনসিপি ও শিবিরের নেতারা অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছেন। তারা অগণতান্ত্রিক উপায়ে এ সরকারকে হটানোর প্রেক্ষাপট তৈরি করছেন বিভিন্ন জ্বালাময়ী বক্তব্যের মাধ্যমে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যে কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে করে ফেলা উচিত। ছয় মাস বা এক বছর পরে ধীরে ধীরে সরকারের ক্ষমতায় থাকার আয়ু কমতে থাকে। ‘আওয়ামী লীগের যে অত্যাচার, সেটা আপনি কপি করার চেষ্টা করার আগেই ওই যন্ত্রণার বোধ থেকেই আপনার পতনের ডাক শুরু হয়ে যেতে পারে।’

সরকারের মেন্টালিটি চেঞ্জ হয়ে গেছে, চব্বিশ আবারও হবে: রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি থেকে সরকার সরে এলে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আবারও হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘সিজন ও চেয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের মেন্টালিটি চেঞ্জ হয়ে গেছে। সরকারকে স্ট্রাকচারাল জায়গায় এক হতে হবে। এটি থেকে সরে আসলে চব্বিশ আবারও হবে। কোনো না কোনোভাবে হয়তো সে প্রস্তুতি হচ্ছে, বাট চব্বিশ হবে। মেজরিটি দিয়ে আটকানোর সুযোগ নেই।’

এর আগে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘গণভোটের রায় যদি আপনারা (সরকার) না মানেন, তাহলে এই সরকারকে আমরা সেদিন থেকেই অবৈধ সরকার বলা শুরু করব। আমরা এটার জন্য সময় নেব না। আপনারা যেমন আমাদের সব অর্জন ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য সময় নিচ্ছেন না, আমরাও কিন্তু সেটার জন্য সময় নেব না।’

বর্তমান সরকারের উদ্দেশে এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আপনারা অনেক সময় বলেন, ১৫-২০ বছরে আর অভ্যুত্থান হবে না। এটার নজির বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশে যখন উনসত্তরের অর্জনটা রক্ষা করা যায়নি, একাত্তরেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। চব্বিশের অর্জন রক্ষা করা না গেলে আবার ছাব্বিশ-সাতাশেও এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে আপনারা আমাদের ফেলে দিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের রাজপথে নামা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। সামনের দিনে হয়তো আমাদের আরও বড় পরিসরে আন্দোলনের কথা ভাবতে হতে পারে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদেরও সরব হওয়ার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, উপদেষ্টারা এখন একধরনের নীরবতা পালন করছেন, যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা অনেকেই খুবই ভোকাল (সোচ্চার) ছিলেন। ‘আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে ভূমিকাটা ছিল, অন্তত সেখানে ফিরে আসা উচিত। কোনো ভয়-ভীতি রাখা উচিত নয়,’ বলেন আসিফ মাহমুদ।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গণতন্ত্র   নস্যাত   গোপন মিশন   এনসিপি   শিবির  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close