চা কিংবা কফি পান করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। কর্মব্যস্ত কিংবা এক ঘেয়েমী জীবনেএক কাপ চা-কফির পেয়ালায় চুমুক, মুহুর্তে শরীর-মন হয়ে ওঠে চাঙ্গা-প্রানবন্ত। নিত্য পণ্যের পাশাপশি জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে পড়া এ চা-কপির মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
দাম বৃদ্ধির প্রচারণা চলছিলো এভাবে, ‘চা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমান জাতীয় ও বিশ্ব পরিস্থিতির দরুন গ্যাস, খড়ি, লাকড়ি, বিদ্যুৎ, চা ও চিনিসহ সকল নিত্য পণ্যের সার্বিক মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন থেকে প্রতিকাপ লাল চা ৭ টাকা, ব্ল্যাক কফি ১০ টাকা ও দুধ কফি-দুধ চা ২০ টাকা নির্ধারণ করা হলো। মূল্যবৃদ্ধির এই বাড়তি চাপের ভোগান্তি বা অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। প্রচারে চা স্টল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, চাঁচকৈড় বাজার, গুরুদাসপুর, নাটোর।’
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরশহরের চাঁচকৈড় বাজার এলাকায় এভাবে মাইকের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।
ঘোষণা অনুসারে প্রতিকাপ লাল চা ও ব্ল্যাক কফিতে ২ টাকা, দুধ চা ও দুধ কফিতে ৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেলো। শুধু তাই নয়, দোকানে দোকানে সাঁটানো হয়েছে দাম বৃদ্ধির প্রচারপত্র।
চা পান করতে আসা রহমত আলী বলেন, ‘এলপিজি গ্যাস, ডিম, সয়াবিন তেল, মশলাসহ নিত্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি চা-কফির দামও বাড়ানো হলো। এভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে কোন না কোন পণ্যের দাম। এতে জীবন-যাত্রার ব্যয় আরেকটু বাড়লো।’
সিন্ডিকেট ভেঙ্গে নিত্য পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
প্রবীণ চা বিক্রেতা সুকুমার বলেন, ‘১২ কেজি ওজনের এক সিলিন্ডার গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ৪০০ টাকা বেড়েছে। একইসাথে জ্বালানি, চা, চিনি সবকিছুর দামই বাড়তি। বাধ্য হয়েই চা-কফির দাম বাড়ানো হয়েছে।’
রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মাজেম আলী মলিন বলেন, ‘সরকারের অগ্রধিকার হওয়া উচিৎ নিত্য পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা সাধারণকেও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি বুঝে জীবনযাপন করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
কেকে/এমএ