ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। এ আসনকে ঘিরে দলটির হাইপ্রোফাইল নেত্রীরা ইতোমধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে সক্রিয় হয়েছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে সংগৃহীত মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি। এসময় বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির ৩৬টি আসনের বিপরীতে ইতোমধ্যে হাজারেরও বেশি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকেও একাধিক নারী নেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন রাইকা ওয়ালী খান, নাহিদ সুলতানা, অঞ্জনা আলম এবং শাহিনুর আক্তার স্মৃতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন শাহিনুর আক্তার স্মৃতি। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ।
শাহিনুর আক্তার স্মৃতি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের মুর্শিদ মিয়া ও হালিমা খাতুন দম্পতির সন্তান। ১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা এই নেত্রী শিক্ষা জীবনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স এবং সেন্ট্রাল ল কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন।
ছাত্রদলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেত্রী ছিলেন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে সহ-ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয়বাদী আইন ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১৫ সালে একটি মামলায় তিনি ৪৫ দিন কারাবন্দি ছিলেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতে, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে শাহিনুর আক্তার স্মৃতি ইতোমধ্যে এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নারী উন্নয়নেও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
শাহিনুর আক্তার স্মৃতি বলেন, ‘দলকে বিজয়ী করতে তৃণমূল পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণের কল্যাণে আরও ব্যাপকভাবে কাজ করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রত্যাশা করি।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
কেকে/ এমএস