কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ভোরের নীরবতা ভেঙে এক বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত কালু বড়ুয়া (৬৫) প্রতিদিনের মতো ভোরে বিহারের জন্য ফুল তুলতে বাড়ির বাইরে বের হন। এ সময় অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া (প্রকাশ টাবু) হাতে ধারালো দা নিয়ে এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালাতে থাকেন। পরিস্থিতি দেখে কালু বড়ুয়া এগিয়ে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো কথা না বলেই টাম্বু বড়ুয়া কালু বড়ুয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তার বুকের ওপর বসে গলায় দা চালিয়ে জবাই করে হত্যা করেন। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া একটি ছুরি নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, আত্মসমর্পণের সময় তার হাতে থাকা ছুরিটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র নয়। তাদের সন্দেহ, অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাটি সংঘটিত হয়েছে এবং সেটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে অসিম বড়ুয়া দাবি করেছেন, এ হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তার ভাষ্য, টাম্বু বড়ুয়ার সঙ্গে কালু বড়ুয়ার আগে কোনো বিরোধ ছিল না। হঠাৎ এমন হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
এদিকে, ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন স্থানীয় সাংবাদিক উচ্ছ্বাস বড়ুয়া। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখে রামু থানাকে অবহিত করেন এবং ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এ সময় প্রান্ত বড়ুয়া (ডংগ্লস) ও বাদল বড়ুয়া (বাদু) মরদেহ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে থাকেন।
উচ্ছ্বাস বড়ুয়ার অভিযোগ, ভিডিও ধারণ করতে গেলে ওই দুজন উত্তেজিত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলাকারীরা আসামিপক্ষের লোক।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
স্থানীয়দের একাংশের সন্দেহ, টাম্বু বড়ুয়ার পাশাপাশি প্রান্ত বড়ুয়া ও বাদল বড়ুয়ারও এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
তাদের মতে, সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, ‘অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।’
কেকে/ এমএস