কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহরত অবস্থায় ২৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করেছে বন বিভাগ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী বন বিভাগ উখিয়া রেঞ্জের আওতাধীন সদর, দোছরি ও থাইংখালী বিট এলাকায় পৃথকভাবে এ অভিযান চালানো হয়।
পরে তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিআইসি ইনচার্জ কর্মকর্তার মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বনের গাছ কেটে সাবাড় করে ফেললেও প্রশাসনিকভাবে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ক্যাম্প ইনচার্জকে অবগত করেনি বলে জানান উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম। যার কারণে উখিয়া রেঞ্জের অধীনে হাজারো হেক্টর সুফল বনায়নের গাছ যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের পেটে।
বন বিভাগের সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন বনাঞ্চলে গাছ কাটা ও ডালপালা সংগ্রহের কারণে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
অভিযানে বনাঞ্চলের ভেতর থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহরত অবস্থায় ২৬ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, উখিয়া রেঞ্জের অধীনে গত কয়েক বছরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অধীনে সুফল বনায়ন করা হয়। আর এত সুফলভোগীরা হলেন স্থানীয় সাধারণ জনগণ। এই সুফলের বাগানসহ বনের বিভিন্ন বনজ গাছ জ্বালানি খাতে ব্যবহার করার জন্য কেটে নিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। যার একটি বিরূপ প্রভাব স্থানীয়দের মাঝে পড়তে পারে।
স্থানীয়রা বলছেন, ‘স্থানীয় উখিয়া রেঞ্জ সঠিক তদারকি না করার কারণে সম্প্রতি বেশ কিছু বাগান এই রোহিঙ্গাদের কবলে পড়েছে।’
মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পে গ্যাসের সংকট হলে রোহিঙ্গারা বনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আজ সোমবার) ২৬ জনকে বন থেকে আটক করে ক্যাম্প ইনচার্জকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। বনরক্ষা, পাহাড় খেকোদের দমনসহ সবদিকে আমরা নজর রেখেছি।’
কেকে/এমএ