দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা জুনিয়ার এনটিআর তার নতুন সিনেমা ড্রাগনের জন্য শারীরিক গঠনে বড় পরিবর্তন এনেছেন। ইন্সটাগ্রামে ছবি দেওয়ার পর থেকে এই পরিবর্তনটি ভক্তদের মধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিনেতার ফিটনেস প্রশিক্ষক কুমার মান্নাভা জানান, মাত্র ৭ সপ্তাহে তিনি প্রায় ৯.৫ কেজি মাংসপেশি কমিয়েছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা হয়—যার মূল লক্ষ্য ওজন কমানো ছিল না। বরং শরীরকে আরও লিন ও দ্রুতগতির উপযোগী করে তোলা ছিল।
এই ট্রান্সফরমেশনের জন্য তার নিয়মিত ব্যায়ামের ধরনে বড় পরিবর্তন আনা হয়। আগে যেখানে ভারী ওজন তুলে পেশি বাড়ানোর দিকে জোর দেওয়া হতো, সেখানে নতুন রুটিনে গুরুত্ব দেওয়া হয় ফাংশনাল ট্রেনিং, কার্ডিও এক্সারসাইজ ও মাঝারি মাত্রার রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং।
প্রতিদিন ভোরে তার ব্যায়াম শুরু হতো এবং সময় লাগত প্রায় ৪৫ থেকে ৯০ মিনিট। দিনের লক্ষ্য অনুযায়ী কখনো কার্ডিও, আবার কখনো শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা হতো। শুধু ব্যায়াম নয়, খাদ্যতালিকাতেও আনা হয় বড় পরিবর্তন।
সাধারণত মাংসপেশি বাড়ানোর জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়। প্রোটিনের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়, যাতে ধীরে ধীরে পেশির ভর কমে এবং শরীর লিন আকার ধারণ করে।
এই পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি তার আগের গঠিত মাংসপেশি কমিয়ে নতুন চরিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক গঠন অর্জন করেন।
এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য শুধু ওজন কমানো ছিল না। বরং লক্ষ্য ছিল এমন একটি শরীর তৈরি করা, যা দেখতে স্লিম, চলাফেরায় দ্রুত এবং পর্দায় চরিত্রের সঙ্গে মানানসই। এই ধরনের শারীরিক পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে করা হয়। সঠিক ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়ম মেনে চললে স্বল্প সময়েও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তবে এমন পরিবর্তন সবার জন্য একরকম উপযোগী নাও হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে যে কোনো ফিটনেস পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
সূত্র : এনডিটিভি
কেকে/এজে