গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাতিজার অত্যাচার, মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে আপন চাচারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা ফিরোজ সুপার মার্কেটে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হাজ্বী ফিরোজ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, তার ভাতিজা মোস্তাফিজুর রহমান মিলন দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। জমিজমার কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখলের উদ্দেশ্যে আদালতে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। শ্রীপুর থানা এই মিলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনের করা ২০ টার বেশি অভিযোগ রয়েছে ।
তিনি আরও বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তের অভিযোগ রয়েছে এবং মাদক সেবনের পর সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এমনকি তার নিজের মায়ের সঙ্গেও মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রেক্ষিতে তার মা মামলা করেছেন বলেও দাবি করেন ফিরোজ আহমেদ। একইভাবে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পৈত্রিক সম্পত্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিলনের বাবা ( আমার বড় ভাই) তাদের সঙ্গে সম্পত্তির অংশীদার ছিলেন। তবে তিনি জীবিত অবস্থায় নিজের অংশ বিক্রি করে চলে যান। এখন তার ছেলে মিলন নতুন করে সম্পত্তির দাবি তুলে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হাজ্বী নুরুজ্জামান নামের অপর এক স্বজনও অভিযোগ করেন, মোস্তাফিজুর রহমান মিলন প্রায়ই তার দোকানে এসে ভয়ভীতি ও মারধরের চেষ্টা করে।
তিনি জানান, নিজের নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক সময় তাকে ভয়ে থাকতে হয়। এছাড়া তার জমি নিয়েও মিথ্যা কাগজপত্র দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন এই ছেলেটা সবসময় নেশা গ্রস্হ থাকে। আমাকে এবং আমার পরিবারকে নেশার টাকার জন্য অনেকবার হুমকী দিয়েছে। আমি এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তা হীনতায় আছি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এসব হয়রানি থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনের পর আজ বুধবার অভিযুক্ত মিলনের বাড়িতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গেলে এলাকার অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করে। তারা নেশাগ্রস্ত মিলনের কারনে এলাকার পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ তুলে তার কঠিন বিচার দাবি করে।
কেকে/ এমএস