মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার ৩ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক মো. মুশফিকুর রহমান মশিককে কালাপুর পাহাড়ি এলাকা থেকে র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের গাজীপুর আনসার ক্যাম্প এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আকল মিয়া (৭৭)। এ ঘটনায় শহিদুর মিয়া (৪৫) নামে নিহতের আরেক ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আকল মিয়া উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের গাজীপুর আনসার এলাকার মৃত আছকর মিয়ার ছেলে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ৩ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক মুশফিকুর রহমান মশিককে কালাপুর পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।’
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আকল মিয়ার সঙ্গে তার ছোট ছেলে মশিক মিয়ার পারিবারিক বিষয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মশিক মিয়া তার হাতে থাকা বড় ছুরি দিয়ে বাবা আকল মিয়াকে আঘাত করেন। এতে তার ডান পাঁজরের নিচে গুরুতর জখম ও রক্তক্ষরণ হয়। বাবাকে বাঁচাতে ছেলে শহিদুর মিয়া এগিয়ে এল তাকেও নাভীর বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে মশিক। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে দুইজনে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আকল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শহিদুর মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে নিহতের ভাতিজা রুবেল মিয়া বলেন, আমার চাচাতো ভাই মশিক মিয়া নেশাগ্রস্থ। বুধবার দুপুরে সামান্য বিষয় নিয়ে পারিবারিক কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে আমার চাচা আকল মিয়াকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। চাচাতে বাঁচাতে আরেক চাচাতো ভাই শহিদুর রহমান এগিয়ে আসলে মশিক তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে আমরা তাদের মৌলভীবাজার হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার আমার চাচাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর কালাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতলিব বলেন, নিহত আকল মিয়া এলাকার একজন প্রবীণসালিশী ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পুরো ইউনিয়ন একজন মুরব্বি ও ন্যায় বিচারক হারালো। পারিবারিকভাবে জানতে পেরেছি ছেলের ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হয়েছেন।
কেকে/ এমএস