জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর পাবনা শহর শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ ও ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দিনের শুরুতে পাবনা শহরে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়। পরে শুরু হয় দিনব্যাপী বিভিন্ন ক্রীড়া ও বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা। এতে হাইকিং, বল পাসিং, রাবার পাসিং, হ্যান্ডকার্চিফ খেলা, ‘ভাইয়া বলেছেন’ প্রতিযোগিতা ও ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতা শিশুদের মাঝে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করে। অভিভাবকদের জন্য আয়োজন করা হয় ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ খেলা।
এছাড়াও অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের জন্য ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ভাত পরিবেশনের ব্যবস্থা, যা নববর্ষের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ফুলকুঁড়ি আসর পাবনা শহর শাখার সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন রাজুর সভাপতিত্বে ও শাখার পরিচালক মুস্তাসিম বিল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরকারী পরিচালক মুবাশ্বির হুসাইন। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন খেলাধুলা ও ব্যায়াম উপদেষ্টা আব্দুল মতিন, প্রেস ক্লাব পাবনার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম রঞ্জু, শাখার উপদেষ্টা রুহুল আমিন রিয়াজী এবং প্রাক্তন পরিচালক খাদদেমুল হক।
সাজ্জাদ হোসেন রাজু বলেন, ‘শিশুরাই আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ। তাদেরকে শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিক শিক্ষা, দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মননশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।’
রফিকুল আলম রঞ্জু বলেন, ‘শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে তাদের মাঝে শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নববর্ষ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। এই চেতনা শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে তারা দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’
অন্য অতিথিরা শিশুদের মাদক, কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান এবং নিয়মিত পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিকালে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে শ্রেষ্ঠ ডেলিগেট ও শ্রেষ্ঠ রেজিমেন্ট ঘোষণা করা হয়।
উৎসবমুখর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু-কিশোরদের মাঝে নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নৈতিক ও শিক্ষামূলক বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে আয়োজকরা মনে করেন।
কেকে/এমএ