জামালপুরে অনলাইনে করিবাজীর নামে প্রতারণা করে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মনির হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুর কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মনির হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর চান্দাপাড়া এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পংকজ দত্ত বলেন, ‘পাশ্ববর্তী শেরপুর জেলার কাপড় ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমানের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী মেয়ে (১৩) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে বাবা-মাকে আপন করে পাওয়া যায়- এসব ভিডিও দেখা শুরু করে। টিকটকে তান্ত্রিক পরিচয়ধারী খুরশেদ কবিরাজের সাথে ওই মেয়ের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে খুরশেদ কবিরাজ নামক প্রতারক চক্র তার সহকারী ‘কবিরাজ’ নামে ২টি ও ‘আল্লাহর দান’ নামে ১টি ইমু একাউন্টের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতো। তার সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কবিরাজীর ফি, ১টি খাসি, ৪টি জায়নামাজ, ৪টি আগরবাতি, ৪টি মোমবাতি, ৫ কেজি গরুর দুধ, ৫ কেজি ফল, মন্ত্রে কাজ না হওয়ায় জোড়া শুকর কিনে জবাই করা, ২ কেজি চন্দন কাঠ ক্রয় ইত্যাদি বাবদ গত ৬-৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় চক্রটি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সর্বশেষ গত ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁক দেওয়ার কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ১ লক্ষ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয়। ওই মেয়েটি আবারো বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে দোকানে গেলে কম বয়স হওয়ায় দোকানদারের সন্দেহ হয়। দোকারদার তার বাবা ছাইদুর রহমানকে ফোন করলে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। এরপর পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে জড়িত জামালপুর সদর উপজেলার চান্দাপাড়া এলাকার মোস্তফার ছেলে মুছা মিয়া ও মৃত নবাব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম নামে দুইজনকে গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এমসি বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত আরও জানান, আগেই গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঘটনার মূলহোতা মনির হোসেনকে ময়মনসিংহের মাসকান্দা নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাড়ীর পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে ২৫ ভরি ৯ আনা ৪ রতি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। যার অনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা। খুরশেদ কবিরাজ নামে কোন ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই। এই নামটি ব্যবহার করে অনলাইন কবিরাজীর আড়ালে চক্রটি প্রতারণা করে আসছিলো। পরে আজ বৃহস্পতিবার মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, মনির হোসেন ফেসুবকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে। তিনি জামালপুরের জনপ্রিয় ‘মেইড ইন জামালপুর’ ফেসবুক পেজে অভিনেতা হিসেবে কন্টেন্ট তৈরি করত।
কেকে/এমএ