মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
অধ্যক্ষ গায়েব, প্রশাসন নীরব—অচল হওয়ার পথে হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ
ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শূন্যতা ও অনিয়মের অভিযোগে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। কলেজটির অধ্যক্ষ মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। 
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অধ্যক্ষকে কলেজে খুব কমই দেখা গেছে। 

একাধিক শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অনুপস্থিত থাকলেও নিয়মিতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ছাড়াই বেতন উত্তোলনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। 
 
অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমে। নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অনুমোদন—সবকিছুতেই দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর বা অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ফলে একাডেমিক অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। 
 
কলেজের শিক্ষক এন্তাজুল হক বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন না করায় পুরো ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। প্রায় এক বছর আট মাস ধরে তাকে নিয়মিত দেখা যায় না। অথচ বেতন-ভাতা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ না হলে প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়বে।’
 
তিনি জানান, প্রশাসনিক নেতৃত্বের অভাবে শিক্ষকরা দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না, ফলে পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। 
 
আরেক শিক্ষক হাসান আলী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়িত্বে না থেকেও আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন—এমন আলোচনা দীর্ঘদিনের। সভাপতির তত্ত্বাবধান বা ছত্রছায়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।’
 
শিক্ষকদের এসব বক্তব্যে স্পষ্ট, সমস্যাটি শুধু ব্যক্তিগত অনুপস্থিতির নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং তদারকির ঘাটতি। ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 
 
শিক্ষার্থীরাও পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ভর্তি, ফরম পূরণ, সনদপত্র সংগ্রহসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে বিলম্ব হচ্ছে। কেউ কেউ জানান, একাধিকবার কলেজে এসেও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হচ্ছে। 
 
এ পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে তা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। 
 
এদিকে, আইন-শৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট একটি পুরোনো তথ্যও নতুন করে সামনে এসেছে। খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সর্দার জানান, সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় একটি মামলা রয়েছে। তিনি এজাহারনামীয় আসামি এবং মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। 
 
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মোনায়েম খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 
  
একইভাবে কলেজের সভাপতি অ স ম আতাউর রহমান বাচ্চুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 
 
কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  অধ্যক্ষ গায়েব   প্রশাসন নীরব   অচল হওয়ার পথে   হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close