মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
জ্বালানি তেল নিয়ে দেশজুড়ে হাহাকার
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৮ এএম আপডেট: ১৮.০৪.২০২৬ ১১:১২ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের চরম সংকট। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে ঢাকার বাইরে থাকা ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য চলছে হাহাকার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনভর অপেক্ষা করেও মিলছে না তেল। অনেকের ফুয়েল পাস থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে—যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেক চালক রাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও পরের দিন দুপুর পর্যন্ত তেল নিতে পারছেন না।

ঢাকার বাইরে অধিকাংশ পাম্পগুলোতে ভোর ৬টা থেকে তেলের জন্য লম্বা লাইন দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও সাধারণ মানুষ তেল পাচ্ছে না। এরই মাঝে তেল নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেকে কালোবাজারি করে তেল পাচার করে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে। তবে সারা দেশের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। তাদের কথার সঙ্গে মিলছে না মাঠের তথ্য। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শনে এসে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন—‘আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে এবং গর্বের সঙ্গে বলতে পারি—বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি কখনোই হয়নি, বর্তমানে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত জ্বালানি আমাদের মজুত আছে।’

তিনি বলেন, আপনারা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন—ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যন্ত আশঙ্কা করছে যে, তাদের হাতে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল রয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি—আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এই বাংলাদেশেও ছয় সপ্তাহ সমপরিমাণ জেট ফুয়েল রয়েছে। আমাদের এপ্রিল ও মে মাসের যে জ্বালানি চাহিদা, সেটি আমরা সংগ্রহ করেছি এবং যা নিশ্চিত সরবরাহ লাইনে আছে। সেটিকে বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি, এপ্রিল এবং মে মাসের চাহিদা পূরণের পূর্ণ সক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের রয়েছে। সেটি আমরা নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়ায় এখন মূলত জুন মাসের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আমরা কাজ করছি।

রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে জানিয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থাৎ এ প্রতিষ্ঠানের মেটেরিয়ালস বলতে যা বোঝানো হয়, সেটি হচ্ছে ক্রুড অয়েল, যা মূলত দুটি উৎস থেকে আসে। একটি হচ্ছে সৌদি আরব, অপরটি আরব আমিরাত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দুটি উৎস থেকেই সরবরাহ হয়ে আসছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এই বছরের জানুয়ারি মাসে আমাদের যে ক্রুড অয়েল আসার কথা ছিল, সেটি পেয়েছি। ফেব্রুয়ারি মাসে যে ক্রুড অয়েল আসার কথা ছিল, সেটিও এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরু হওয়ার পর মার্চ ও এপ্রিল মাসের যে শিডিউল ছিল, সেগুলো ব্যাহত হয়েছে।

বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা রিফাইন অয়েল যেমন সংগ্রহ করছি, তেমনি ক্রুড অয়েলও সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। সেখানে আমরা একটি কার্গো ক্রয়ও করেছি, যদিও সেটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। আরও দুটি কার্গো (ক্রুড অয়েলের) স্ট্যান্ডবাই রয়েছে। আমরা আশা করছি, এই মাসের শেষার্ধে একটি কার্গো জাহাজ পৌঁছাবে। এমতাবস্থায় সাময়িকভাবে আমাদের যে উৎপাদন সক্ষমতা (ইস্টার্ন রিফাইনারির), সেটি কিছুটা হলেও কমপ্রোমাইজড হয়েছে। এ নিয়ে হয়তো কিছু প্রশ্ন এসেছে। আপনাদের মধ্যেও কিছু জিজ্ঞাসা রয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী অমিত বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই—ফুল ক্যাপাসিটিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি যদি চালু না থাকে, তবুও যেন জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য সরকার পরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহের মাত্রা বাড়িয়েছে, যাতে সরবরাহে কোনো সমস্যা না হয়।

এদিকে চলমান এ পরিস্থিতিতে আগামী রোববার থেকে বাজারে অকটেন সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি বলছে, সরবরাহ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। গতকাল শুক্রবার বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাজারে ২৫ শতাংশ অকটেন বাড়ানোর চিন্তা করছি। যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা চিন্তা করছি।’

দেশে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকা একমাত্র সরকারি সংস্থা বিপিসি। তাদের অধীনস্থ তিন বিপণন কোম্পানি—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিলারদের মাধ্যমে সংস্থাটি তেল বিক্রি করে। এখন বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হলে ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের সারি কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে সরবরাহ বাড়ানো না হলে তা সংরক্ষণের জায়গা পাওয়া যাবে না। দেশে সব মিলিয়ে অকটেন মজুত করার সক্ষমতা আছে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন। ১৫ এপ্রিল বিক্রির পর মজুত আছে ৩০ হাজার ৬৬৭ টন, যা বর্তমান সরবরাহ বিবেচনায় ২৬ দিনের মজুত। শুক্রবার ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় উৎস থেকেও প্রতিদিন গড়ে ৭০০ টন যুক্ত হচ্ছে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চে প্রতিদিন গড়ে অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে এক হাজার ১৯৩ টন। এ বছর যুদ্ধজনিত অস্থিরতার কারণে মার্চে দৈনিক সরবরাহ ২৬ টন বেড়ে এক হাজার ২১৯ টনে দাঁড়ায়। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এপ্রিলে প্রতিদিন সরবরাহ কমেছে ৪৯ টন। আর গত মাসের তুলনায় এ মাসে সরবরাহ কমেছে ১০৪ টন। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ডিপো থেকে গড়ে সরবরাহ হয়েছে এক হাজার ১১৫ টন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে চারটি জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে তিনটিতে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫১ টন ডিজেল এবং অন্যটিতে ২৭ হাজার ৩৬৩ টন অকটেন রয়েছে। এর মধ্যে বন্দরের আলফা অ্যাংকরে অবস্থান করা ৩৫ হাজার ৩৪৬ টন ডিজেলবাহী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এমটি অকট্রি’ জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে লাইটারিং শুরু হয়েছে। এটি আজ শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভেড়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জ্বালানি তেল   দেশজুড়ে   হাহাকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close