জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার ছিল এ কার্যক্রমের শেষ দিন। এদিন রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অংশ নিয়েছেন। এর আগে প্রথম পাঁচটি বিভাগের প্রায় ৪০০ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে দলের পার্লামেন্টারিয়ান বোর্ড। এ পর্বে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অংশ নেন।
বিএনপির পার্লামেন্টারিয়ান বোর্ডের এই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহীদের যোগ্যতা, সংগঠনিক সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এ সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে মনোনয়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শেষে প্রার্থীদের প্রত্যাশা, ত্যাগী ও যোগ্যদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। যারা দীর্ঘ ১৭ বছর দলের সঙ্গে থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলেছেন, জেল-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, দলীয় আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি—তারা এবার মূল্যায়িত হবেন বলে তাদের আশাবাদ।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গঠিত মনোনয়ন বোর্ড অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে যোগ্য প্রার্থীদের খুঁজে বের করতে এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছেন। যারা দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং দলের আদর্শের প্রতি অবিচল, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ এবং জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘নেত্রীদের রাজনৈতিক ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও অবদান বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগের মতোই প্রবীণ-নবীনের সমন্বয় রাখা হবে।’
গত ১০ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনের জন্য মোট ১ হাজার ১৯৪ জন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন, যার মধ্যে যাবতীয় তথ্য পূরণ করে জমা দিয়েছেন ৯০৭ জন প্রার্থী। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা এবং জামানত হিসেবে প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা করে জমা দিতে হয়েছে।
আলোচনায় যারা: মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান এবং মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। বরিশালের মনোনয়নবঞ্চিত সেলিমা রহমান ও ঢাকা-৯ আসন থেকে মনোনয়ন চাওয়া আফরোজা আব্বাস—দুজনই সংরক্ষিত আসনে শক্তিশালী প্রার্থী। এ তালিকায় আরও রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী এবং ‘অর্পণ আলোক সংঘ’-এর মাধ্যমে নির্যাতিত কর্মীদের পাশে থাকা বীথিকা বিনতে হুসাইন। এ ছাড়া মহিলা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী এবং গুম হওয়া নেতাদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলিও মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
সংরক্ষিত আসনের সম্ভাব্য তালিকায় আরও নাম রয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, সুলতানা আহমেদ, নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের। পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন, কনক চাঁপা এবং সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে শাহনাজ পলির নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদও সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন।
তরুণ প্রজন্ম ও নারী নেত্রীদের মধ্য থেকে আলোচনায় আছেন শাহানা আক্তার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, জেবা আমিন খান, শাহিনুর নার্গিস, তানজিন চৌধুরী লিলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, শাহিনুর সাগর, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী ও সৈয়দা আদিবা হোসেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বড় একটি অংশ এখন ঢাকায় অবস্থান করে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং কেউ কেউ এর আগে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত বা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ করা হবে।
কেকে/এলএ