মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      ভূমিকম্পে কাঁপলো রাজধানী      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্র নীতিগত সমন্বয় জরুরি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

এই গরমে সবচেয়ে বড় ভোগান্তির নাম এখন লোডশেডিং। শহর-গ্রাম কোথাও রেহাই নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, বিশেষ করে গ্রামের মানুষ একেবারে নাজেহাল। ঠিক এই সময়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আলোচনা শুরু হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই এতে একটা অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। 

সরকারের দিকটা পুরোপুরি অযৌক্তিকও নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যুদ্ধের কারণে সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে। কয়লা, গ্যাস, এলএনজি সবকিছুর খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এখন যে দামে বিদ্যুৎ বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি এই ঘাটতি সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে সামলাতে হচ্ছে। আর সেই ভর্তুকির পরিমাণও দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়। এই সমস্যার সমাধান কি শুধু দাম বাড়ানো?

দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা কম নয়, উৎপাদন সক্ষমতাও কাগজে-কলমে অনেক। কিন্তু বাস্তবে তার বড় একটা অংশ বসে আছে জ্বালানির অভাবে। অর্থাৎ, আমরা কেন্দ্র বানিয়েছি, কিন্তু চালানোর মতো জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারিনি। এটা কি শুধু বাইরের পরিস্থিতির কারণে, নাকি আমাদের নিজেদের পরিকল্পনারও ঘাটতি আছে এই প্রশ্নটা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। 

আরেকটা বিষয় হচ্ছে ব্যবস্থাপনা। বিদ্যুৎ খাতে অপচয়, সিস্টেম লস, অদক্ষতা এই সমস্যাগুলো নতুন কিছু না। এগুলো ঠিক না করে যদি সরাসরি গ্রাহকের ওপর দাম বাড়ানোর চাপ দেওয়া হয়, তাহলে সেটা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কাছে অন্যায্য মনে হবে। সরকার বলছে, যারা কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তাদের ওপর প্রভাব কম পড়বে। 

কিন্তু বাস্তবতা হলো, মধ্যবিত্ত আর নিম্ন-মধ্যবিত্তই শেষ পর্যন্ত বেশি চাপে পড়বে। শিল্প খাতেও খরচ বাড়বে, যার প্রভাব ঘুরে-ফিরে সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে পণ্যের দাম বাড়বে, জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়বে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু জিনিস পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমরা কি বিকল্প জ্বালানির দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি? দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ আছে? নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ কি সত্যিই বাড়ছে? নাকি আমরা এখনো আমদানিনির্ভর এক অনিশ্চিত ব্যবস্থার ওপরই দাঁড়িয়ে আছি? 

বাস্তবতা হলো, কিছুটা মূল্য সমন্বয় হয়তো এড়ানো যাবে না। কিন্তু সেটাই যদি একমাত্র সমাধান হয়, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে। দরকার দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা আর স্বচ্ছতা একসাথে থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আস্থা। মানুষ যদি দেখে যে সমস্যাগুলো ঠিক করার চেষ্টা হচ্ছে, অপচয় কমানো হচ্ছে, পরিকল্পনা বদলানো হচ্ছে তাহলে হয়তো কষ্ট হলেও তারা মেনে নেবে। 

কিন্তু সেই বিশ্বাস তৈরি না করে শুধু দাম বাড়ালে ক্ষোভই বাড়বে। এই সংকট শুধু বিদ্যুতের না, নীতিরও। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমরা কি সাময়িক সমাধানের পথে হাঁটব, নাকি একটু কঠিন হলেও টেকসই পথটা বেছে নেব?

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close