মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে সুখবর      এবার পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন      
খোলাকাগজ স্পেশাল
ক্লান্তিলগ্নেও অপপ্রচার চালাচ্ছে জামায়াত
শিপার মাহমুদ
প্রকাশ: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৯ এএম আপডেট: ২০.০৪.২০২৬ ১২:১০ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

বৈশ্বিক সংকটে দেশ যখন এক ক্লান্তিকাল পার করছে, তখনও সামাজিকমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বাড়ছে অস্থিরতা। এতে জনমনে সৃষ্টি হচ্ছে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ। সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব অপপ্রচারের নেপথ্যে কাজ করছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কর্মী-সমর্থকেরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি উসকে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারবিরোধী কিছু অ্যাক্টিভিস্ট সামাজিকমাধ্যমে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করছেন, যা রাজনৈতিক উত্তেজনাকে বাড়িয়ে তুলছে। বিভিন্ন নামে-বেনামে খোলা ফেসবুক পেজ, আইডি ও গ্রুপ থেকে ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড:
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দেশে কিছু ‘বটবাহিনী’ আছে। কী যে শুরু করেছে আমাকে নিয়ে! বলে ফেলছে, আমি নাকি পরীক্ষার রুটিন দিই পরীক্ষার দিন। আমি বললাম, এবার জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল করব না। তারা লিখে দিল, এবার ফেল করলে এমপিও বাতিল। এখন দেখা যায়, ফেসবুকই দেশ চালায় নাকি! গত শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

‘বটবাহিনীর’ উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার সঙ্গে এগুলো করে কোনো লাভ হবে না। আমার কাজ আমাকে করতেই হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতেই হবে। তিনি বলেন, আমরা সবাই একটি জিনিস চাই, সেটি হলো—আগামীর বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। আমরা যদি বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারি, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আবিদকে জুতাপেটার ভুয়া প্রচারণা:
সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—‘ডাকসুর পরাজিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদকে জুতাপেটা দিলেন জনগণ।’ ভিডিওটি জামায়াতপন্থি বেশ কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়—ভিডিওতে আক্রান্ত ব্যক্তি ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম নন। বরং এটি প্রেমিকা বা স্ত্রীকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত একটি মারধরের ঘটনা।

ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট জানায়—ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী ওই ব্যক্তির প্রেমিকা নন, স্ত্রী। অন্য একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই যুবক তাকে মারধর করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি।

ছাত্রদল-ইনকিলাব মঞ্চ বিরোধ:
হাদিকে নিয়ে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি দেওয়াল লিখন করে। ভুল বানান নিয়েও সামাজিকমাধ্যমে একে অপরকে কটাক্ষ করা হয়। ফাতিমা তাসনিম জুমা ভুল বানানে লেখা দেওয়াল লিখনের ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘ছাত্রদলের জন্য ফ্রিতে একটা বানান কোর্স চালু করতে চাই।’

অন্যদিকে ডাকসুর কমনরুম, পাঠকক্ষ ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা লিখেন, ‘বাংলার সঙ্গে ইংরেজিটাও শিখতে বলো।’ তারা দুজনই গত বছরের ডাকসু নির্বাচনে জামায়াতের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হন।

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের সমালোচনার জবাবে সূর্যসেন হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবিদুর রহমান মিশু দেওয়াল লিখনের সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, বানান ভুল করে লিখছেন ইনকিলাব মঞ্চের এক নারী সদস্য। পরে তিনি ফেসবুকে লেখেন, ছাত্রদলকে নিয়ে অনলাইনে বটবাহিনী মিথ্যাচার করেছে। অথচ দেওয়াল লিখনটি করেছে খোদ ডাকসু সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। ভিডিও প্রকাশের পর ফাতিমা তাসনিম ও উম্মে সালমা ছাত্রদলের সমালোচনায় করা পোস্ট সরিয়ে নেন।

গণমাধ্যমের প্রশ্নে ফাতিমা তাসনিম জুমা ভুল বানানের দায় স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সেখানে অনেক বাইরের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে আসায় কথাবার্তার মধ্যেই লেখার সময় ভুল হয়ে যায়। পরে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ প্রকাশ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের অপপ্রচারের পেছনে সরকারবিরোধী সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট ইস্যু ধরে প্রচারণা চালায় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে দিতে নেটওয়ার্কভিত্তিকভাবে কাজ করে। তবে এসব অপপ্রচার ঠেকাতে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলেই তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ভুয়া আইডি ও পেজ শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, অপপ্রচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার করা এবং একইসঙ্গে জনগণকে তথ্য যাচাইয়ে সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক অপপ্রচার ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ক্লান্তিলগ্ন   অপপ্রচার   জামায়াত  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close