দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হল এবং শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মো. সুজন ইসলামের নারীঘটিত স্ক্রিনশট ভাইরালের জেরে তাকে হল থেকে বের করে দিতে যায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা। সুজন ইসলাম তিনিও একই হলের শিক্ষার্থী। ওই ভাইরাল স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সুজন একজন মেয়েকে পছন্দের বিষয়ে তার বান্ধবীকে বলছেন এবং পছন্দকৃত শিক্ষার্থীকে বোঝানোর কথা বলছেন। সেই স্ক্রিনশটে সুজন বলেন যে, তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টরসহ সবাই চেনেন। তার মধ্যে এবং পছন্দকৃত শিক্ষার্থীর যেন সমঝোতা হয়, এমন কথাও বলেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে জিয়া হলের শিক্ষার্থীরা তাকে বের করতে চান। এ সময় হল সুপার, প্রক্টর এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক উপস্থিত হন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলে প্রবেশের সময় শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীরাও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলে প্রবেশ করেন। শহীদ আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীরা কেন উপস্থিত হলেন, এ নিয়ে জিয়া হলের শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
জানা যায়, তর্কের এক পর্যায়ে আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীরা জিয়া হলের শিক্ষার্থীদের বাইরের নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলেন। এমন কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে জিয়া হলের শিক্ষার্থীরা তাদের হলের গেট লাগিয়ে তাদের আটক করে রাখেন। এ নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ৭টি গাড়ি পুলিশ অবস্থান করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এখনো চলছে এ সংঘর্ষ।
অনেক শিক্ষার্থী সংশয় প্রকাশ করে বলেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে হাবিপ্রবি প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফোন রিসিভ করেননি।
কেকে/এলএ