গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় ছেলের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ফটোকপি করতে গিয়ে সশস্ত্র ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন এক বাবা। হামলাকারীরা তাকে মারাত্মকভাবে আহত করে সঙ্গে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ঘাগটিয়া চালা বাজার থেকে মনোহরদীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলে বরকতকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন (৫০) কাপাসিয়া উপজেলার বরকতকান্দা গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।
তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ‘ঘাগটিয়া চালা বাজারে আমার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। সকালে ছেলের প্রবেশপত্র ফটোকপি করা এবং ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে জমা দিতে মোটরসাইকেলে করে মনোহরদী যাচ্ছিলাম। পথে বরকতকান্দা এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রাসেল মিয়া লোহার রড দিয়ে আমার মোটরসাইকেল থামিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে মাথায় আঘাত করলে আমি গুরুতর আহত হই। এ সময় সঙ্গে থাকা শাহিন মিয়া জোরপূর্বক আমার প্যান্টের পকেট থেকে নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তাদের সঙ্গে আরও একজন সহযোগী ছিল।’
কামাল হোসেনের ছেলে রেজা নুর হোসেন কাইপ জানায়, হামলার সময় আমার প্রবেশপত্র রক্তে ভিজে যায়। বর্তমানে আমি প্রবেশপত্র পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।
আহত কামাল হোসেনকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তার মাথায় একাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মনোহরদী মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাছে প্রবেশপত্র নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে বলেন জানান রেজা নুর হোসেন কাইপ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম খোলা কাগজকে বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী রক্তাক্ত জখম হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় কামাল হোসেন বাদী হয়ে রাসেল মিয়া (৩০), শাহিন মিয়া (২৮) ও শাকিল মিয়ার (২৮) নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কেকে/এমএ