নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের ভাগনা সবুজ হোসেনকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক সবুজ হোসেন নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগনা এবং মান্দা উপজেলার পারনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মরদেহ দেখতে পান। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল।
কেউ কেউ ধারণা করছেন, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে থাকতে পারে।
এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
নিহত পপির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন আর বলছিলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের ফাঁসি চাই। আমার তিন বছরের নাতনিকেও তারা ছাড়েনি।”
নিহত হাবিবুরের বাবা বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। আমার মেয়ে, মেয়ে জামাই ও নাতিরা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। তারা বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলেসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সবুজ হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহতদের মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।’
কেকে/এলএ