চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারায় রাতের আঁধারে কেটে সাবাড় করা হয়েছে বিশাল টিলা। দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিনের মালিকানাধীন এই টিলা নির্বিচারে কেটে সমতল করে ফেলা হলেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসনাবাদ বৈধ্যপাড়া এলাকার প্রিন্সিপাল জহিরের কাছ থেকে প্রায় চার কানি আয়তনের টিলাটি ক্রয়ের পর প্রথমে গাছপালা উজাড় করা হয়। এরপর ভেকো মেশিন (স্কেভেটর) ব্যবহার করে টিলাটির মাটি কেটে পুরো এলাকা সমতল করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, একসময়ের উঁচু টিলাটি এখন প্রায় বিলীন। কাটা মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে পাশের আবাদি জমি ভরাটে। এতে প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরতা ও উৎপাদন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘এ ধরনের অবৈধ টিলা কর্তন পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু, ভূ-প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড বারবার ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধ নেই। তারা টিলা কর্তন বন্ধ, দায়ীদের শাস্তি ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা দাবি করে বলেন, ‘এটি কেবল ভূমি রূপান্তর নয়; বরং সুপরিকল্পিত পরিবেশ ধ্বংসের শামিল।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাঁতমারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়েও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোজাহিদুর রহমান বলেন, ‘টিলা কর্তনের বিষয়টি আমরা জেনেছি। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ