চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় গোপনে স্থাপিত একটি অস্থায়ী কারখানায় পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের ঘটনায় আব্দুর রহমান(৫০) নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার উথলী ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রাম সংলগ্ন একটি নির্জন মাঠে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (এসি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে।
সরজমিনে জানা গেছে, ফাঁকা মাঠের ভেতরে ঘেরাও করে গড়ে তোলা অস্থায়ী কারখানায় বিপুল পরিমাণ পুরাতন ব্যাটারি মজুদ করে তা পুড়িয়ে সীসা (লেড) আহরণ করা হচ্ছিল। এতে উৎপন্ন বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছিল। পরে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহমান গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বেচাদহ মজমাগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মিন্না বেপারীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। অভিযানকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিদর্শক মো. নাইম হোসেন এবং জীবননগর থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কারখানার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালিত হলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে রাত ১০টার পর থেকে উথলী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র পোড়া ও বারুদের মতো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এর উৎস শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়।
খয়েরহুদা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েকদিন ধরে রাত হলেই বাতাসে তীব্র পোড়া ও বারুদের মতো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, শিশু ও বৃদ্ধদের বেশি সমস্যা হচ্ছিল।
আরেকজন বাসিন্দা বলেন, আমরা প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না গন্ধটা কোথা থেকে আসছে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরলে প্রশাসনের নজরে আসে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।
স্থানীয়রা আরও জানান, এ ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রম যেন আর কখনো চালু না হয়, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে বলেন, “অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা আহরণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দোষী ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে এবং কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানের পর এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
কেকে/এজে