বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের কুফল তুলে ধরে সচেতনতা বাড়াতে নীলফামারীর কচুকাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ওয়ার্ল্ড ভিশন নীলফামারী এপির আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান আকর্ষণ ছিল বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সচেতনতামূলক নাটিকা। স্বপ্নজয়ী শিশু ফোরামের সদস্যরা নাটকের মাধ্যমে অল্প বয়সে বিয়ের ফলে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়া, মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং পারিবারিক অস্থিরতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা শুধু একটি মেয়ের জীবন নয়, পুরো সমাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’ তিনি এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে কচুকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের সচেতন করাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষ অতিথি কচুকাটা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস আলম বলেন, মেয়েদের শিক্ষার বিকল্প নেই এবং এ সমস্যা মোকাবেলায় পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অনুকূল চন্দ্র বর্মন জানান, শিশুদের অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে প্রোগ্রাম অফিসার ডেবিট বাস্কে বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এটি দারিদ্র্য ও বৈষম্য বাড়ায়।
‘আধার পেরিয়ে আলো পথে’ নাটকের পরিচালক প্রভাতী রায় বলেন, নাটকের মাধ্যমে সহজভাবে মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় এ মাধ্যমটি বেছে নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোহাগ ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রতীকীভাবে বাল্যবিবাহকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করে এর বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান জানায়।
কেকে/ এমএস