নোয়াখালী চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া-ইটপুকুরিয়া-দেলিয়াই সড়কের বেহাল দশা। এতে করে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন ও লোকজন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, এ সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি খিলপাড়া বাজার থেকে দক্ষিণে শংকরপুর গ্রামের ওপর দিয়ে ইটপুকুরিয়া হয়ে দেলিয়াই পর্যন্ত সংযোগ সড়ক। এটি ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে পাকা করা হয়েছে।
এরপর থেকে সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের কোনো কাজ করা হয়নি। এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ ৬ গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত কয়েকশত হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে।
পল্লী চিকিৎসকরা বলছেন, জরুরি অবস্থায় কোনো রোগীকে এ সড়ক দিয়ে হাসপাতালে নেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিষেশ করে গর্ববতী নারীদের জরুরিভাবে হাসপাতালে নেওয়াটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে সড়কটি যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সড়কের ওপরের কার্পেটিং উঠে গেছে। পুরো সড়ক খানাখন্দে ভরা, রাস্তার দুপাশ ধসে গেছে। বিশেষ করে শংকরপুর পান্ডা বাড়ির পাশের পুকুর পাড়ে প্যালাসাইডিং না থাকায় এখানে প্রায় ১০০-১৫০ ফুট রাস্তা সম্পূর্ণরূপে ধসে গেছে। এছাড়া হাসিম ব্যাপারীর বাড়ির সামনে থেকে রাস্তার মাথা পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ পাশ, রাস্তার মাথা থেকে ইটপুকুরিয়া পর্যন্ত রাস্তার পূর্ব পাশ এবং ইটপুকুরিয়া থেকে দেলিয়াই পর্যন্ত রাস্তার দক্ষিণ পাশ খালপাড় হওয়ায় সড়কটি ধসে খালের দিকে পড়ে গেছে।
এতে করে বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলাচলের অযোগ্য এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করে ঝুঁকি নিয়ে। এতে যানবাহনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী শংকরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, “দীর্ঘদিন থেকে এ সড়কটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে আছে। এর দুরাবস্থা দেখার কেউ নেই।”
শিক্ষার্থী নুরুল করিম জানান, সাইকেল নিয়ে স্কুল যেতে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, সড়কটি সংস্কার করা অতিব জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করবেন।
উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুর আলম বলেন, “চলাচলে অযোগ্য ও ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক যেগুলো দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার করা হয়নি এগুলোর তালিকা নতুন করে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।”
কেকে/এজে