মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর       কোনো রোগী যেন চিকিৎসার অভাবে দুর্ভোগে না পড়ে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী      রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণ      হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বাংলাদেশকে প্রভাব বলয়ে রাখতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র
প্রণব আচার্য্য
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:১১ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে বাংলাদেশ। বিশ্বের বৃহত্তর শক্তিগুলো বাংলাদেশকে নিজেদের বলয়ে রাখতে নানা চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

দিন দিন ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার। এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব তৈরি করতে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধিতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়া রয়েছে আঞ্চলিক শক্তি ভারতের তৎপরতাও। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ অনেকদিন ধরেই পরাশক্তিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ভারতের প্রভাব বলয়ে ছিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বাংলাদেশ পুরোপুরি দিল্লির বলয়ে ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্ক চরম বৈরিতায় রূপ নেয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ঘিরে নতুন ছক সাজাচ্ছে। বিশেষ করে চীনের প্রভাব ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মার্কিন ঈগল।

গত কয়েক দশকে ভারতের পাশাপাশি চীনও বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। দেশের অনেকগুলো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীনা কোম্পানিগুলো। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। আর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তর বাণিজ্যিক অংশীদার। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার। কিন্তু বাংলাদেশের চীনের দিকে ঝুঁকে পড়াটা ভালোভাবে নিচ্ছে না ওয়াশিংটন। তাই বাংলাদেশকে নিজেদের প্রভাব বলয়ে ধরে রাখতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশে এসে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন, এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশে আমি সব বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখব। এখানে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকির যে বিষয়টি রয়েছে, সেটা আমি স্পষ্টভাবে তুলে ধরব।’

এ ছাড়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব দৃঢ় করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাণিজ্য চুক্তি দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দি করেছে দেশকে।

এ বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা দেখছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে বাংলাদেশকে তাদের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত করার আগ্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে। এটারই বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখি নির্বাচনের দুই দিন আগে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন। এটা আসলে বাণিজ্যের আড়ালে সামরিক নিরাপত্তা চুক্তি। এ চুক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুব বিপজ্জনক। মূলত কিছু বাণিজ্যিক সুবিধার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে আমাদের চারপাশ থেকে বেঁধে ফেলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে চীন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এ অঞ্চলে চীনের অংশীদারত্ব কমাতে। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতা চুক্তি করতে পারি না, যেটার মাধ্যমে চীন কিংবা রাশিয়া, এমনকি ভারত বা জাপান অথবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক সুবিধা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।’

বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও উদ্বিগ্ন সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকারের আপাতত এ চুক্তি বাতিলের পরিকল্পনা নেই। এতে আমি আরও উদ্বিগ্ন। অর্থাৎ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ চুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য কোনো বিপ্লবী হওয়ার দরকার নেই। সাধারণ দেশপ্রেমবোধ থাকলে, জাতীয় চেতনা থাকলে কোনো সরকার, কোনো দল, জনগণের কোনো প্রতিনিধি এ চুক্তিকে বরদাস্ত করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচিত সরকারের দায় হচ্ছে দেশের কাছে, জনগণের কাছে; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নয়। আমরা সবার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব চাই। আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক চাই। কারো অধীনতা স্বীকার করে আমরা সম্পর্ক চাই না। যুক্তরাষ্ট্রের কারণে আমরা আর সবার সঙ্গে বৈরিতা করব—এরকম কোনো প্রশ্ন নেই। বরং বিশেষ কোনো দিকে ঝুঁকে পড়াটা সরকারের জন্য বিপজ্জনক হবে।’

সম্পর্ক আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ চলছে : বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুস্পষ্ট রূপরেখার আওতায় ওয়াশিংটন ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদানের ১০০ দিন পূর্তিতে বুধবার এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘১০০ দিন পর আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও বেশি আশাবাদী। আমরা সামনে আরও কী কী অর্জন করতে পারি, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাণিজ্যঘাটতি ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এ চুক্তি করা হয়েছে। আমি নিরলসভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেছি।’

ক্রিস্টেনসেন বলেন, দুই দেশ অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সহযোগিতা করছে এবং অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের জন্য একটি ‘ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা অংশীদারত্ব’ গড়ে তুলছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যক্ষ্মা, হামসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন স্বাস্থ্য অংশীদারত্বে কাজ করছি।’

রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ও বৃহত্তর অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে কাজ করেছেন এবং আমেরিকান স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশ   যুক্তরাষ্ট্র  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close