মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: হামে প্রাণ গেল আরও তিন শিশুর, মোট মৃত্যু ৬৮৬      একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      
খোলাকাগজ স্পেশাল
সংঘাতের পাঁয়তারা জামায়াত-শিবিরের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৬ এএম আপডেট: ২৫.০৪.২০২৬ ৯:৪৬ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

একদিকে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াত–এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আন্দোলন, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন।

আশঙ্কা করা হচ্ছে—পরিস্থিতি যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তবে ছাত্ররাজনীতিতে হঠাৎ এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—দেশে কি পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না। অনেকের মতে, জুলাই সনদের দাবিতে চলমান আন্দোলনে প্রত্যাশিত জনসমর্থন না পাওয়ায় বিরোধী দল এবার ছাত্রসমাজকে উসকে দিচ্ছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া কার্ড, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে পরিস্থিতি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার এ বৈরী সম্পর্ক সহজে শেষ হওয়ার নয়; সময়ের সঙ্গে তা আরও বাড়তে পারে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অস্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি সরকারও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। আর এতে সুযোগ নেবে পতিত আওয়ামী লীগ।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে তাদের অভিভাবক সংগঠন বিএনপি ও জামায়াত। বিষয়টি গড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও। সরকার ও বিরোধী দল একে-অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তির ছুড়েছে এ ইস্যুতে।

আলোচনার সূত্রপাত করে সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণ আঙুল চুষবে না, বসে থাকবে না এবং তাকিয়েও থাকবে না।

তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। গত বুধবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এ উত্তাপ সৃষ্টি হয়।

আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, যারা ৭১ সালের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারে না, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন চাইতে পারে না। ৭১ সালে জন্ম হওয়া বাংলাদেশকে তারা মেনে নিতে পারেনি বলেই আজ সদ্যগঠিত সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে শান্তির, উন্নয়নের ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিরোধী দলের ভাইয়েরা সংসদের ভেতর ও বাইরে এই সরকারকে নাজেহাল করার জন্য চক্রান্ত চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

স্পিকারকে সম্বোধন করে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে ‘গুপ্ত’; ছাত্রদল লিখেছে ‘গুপ্ত’। সেজন্যই তারা ‘গুপ্ত’ শব্দকে উল্লেখ করে ছাত্রদলের ওপর হামলা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেছে। আজ আমাদের বিরোধী দলের ভাইয়েরা খেপে উঠেছেন এই বলে যে, সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার নেই। চট্টগ্রামে ছাত্রদল কী কথা বলেছে? ‘গুপ্ত’ বলেছে। এই সংসদে আমরা নির্বাচিত হয়ে এসেছি কথা বলার জন্য। বিরোধী দলের ভাইয়েরা আজ কণ্ঠ চেপে ধরতে চায় ফ্যাসিস্টের মতো।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথমে আমি এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটা এক্সপাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ-সদস্য সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি এবং আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না—মানে কী? তিনি কি জনগণকে উসকে দিচ্ছেন? বিশৃঙ্খলার দিকে এগিয়ে দিচ্ছেন—এগুলো সংসদীয় আচরণ নয়।

পরে জামায়াতের আরেক সদস্য মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের সিটি কলেজের ঘটনা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, কারও ওপর দায় না চাপিয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
একপর্যায়ে বিএনপি দলীয় সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবীব বলেন, বিরোধী দল যেভাবে অসহিষ্ণু আচরণ করছে, যেভাবে আক্রমণাত্মক ভূমিকা রাখছে, এতে কে উপকৃত হবে—তা বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের কাছে প্রশ্ন। গণতন্ত্র বিপন্ন করতে অসহিষ্ণু হলে তা কাদের সুযোগ করে দেবে, তা ভাবার জন্য বিরোধী দলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে সেলিম রেজা বলেন, জুলাই সনদ ও আদেশ নিয়ে আপনারা বিতর্ক করছেন। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেছেন, স্বাক্ষরিত সনদ তিনি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে আসুন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিই, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করি, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করি।
এ সময় স্পিকার বলেন, আমরা পরীক্ষা করে দেখব—যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে, সেটা এক্সপাঞ্জ করব। আর যেসব বক্তব্য—এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকব না। এগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিকরা বলে এসেছেন। আপনারা বক্তৃতা যখন দেবেন, এর জবাব দেবেন। কিন্তু বক্তব্য রাখার সময় অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের দিক থেকে কোনো সংঘাত হবে না। তারা আমাদের গ্রাফিতি কর্মসূচির পরিবর্তে অন্য কোনো কর্মসূচি দিতে পারত। কিন্তু তা না করে একের পর এক উস্কানিমূলক কাজ করে যাচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে তারা ঝামেলা করেছে। চট্টগ্রামের সিটি কলেজেও তারা সংঘাতে জড়িয়েছে। ছাত্রদল এই জায়গায় সহনশীল ভূমিকা পালন করছে। আমাদের সংগঠন থেকেও সহনশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনা রয়েছে।’

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর তাদের (ছাত্রদল) রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা নেই। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কমিটি নেই। আবার কেন্দ্রীয় কমিটিসহ প্রায় সব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ। তাই ক্যাম্পাসে আগে সরকারি দল যেভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করত, এখন ছাত্রদল তা করছে। তারা তাদের ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর জন্য এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে। ছাত্রদল নিজেরা হামলা করে আবার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে। ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলেরও চরিত্র ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছে।’

প্রসঙ্গত, ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ করে ‘গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এ সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। চট্টগ্রামে এ দুই ছাত্রসংগঠন সংঘাতে জড়ায়। তবে চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ, পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। শাহবাগের ঘটনার পর ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও শোডাউন করেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  জামায়াত   শিবিরের  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close