ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সদস্যদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে চবির বুদ্ধিজীবী চত্বরে মানববন্ধন করা হয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধনে চবিসাসের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি রেফায়েত উল্লাহ রূপক বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাত ও বুধবারে আমরা যে ঘটনা প্রত্যক্ষ করলাম, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা করা হয়েছে, তা ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা হিসেবে দাগ হয়ে থেকে যাবে। আমাদের যে বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে, সেখানে সাংবাদিকরা হওয়ার কথা ছিল সেতুবন্ধন। অথচ আপনারা আজকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা সৃষ্টি করলে তা কোনোভাবেই ভালো ফল বয়ে আনবে না। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার কথা বলেন, তখন আপনারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন; যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
চবিসাসের সহ-সভাপতি ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আজিম সাগর বলেন, ‘দুঃখের সাথে বলতে হয়, ছাত্রদল রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে- এটা খুবই লজ্জাজনক। যে সংগঠন ৫ আগস্টের আগে মজলুম ছিল, সেই সংগঠন আজকে জালিমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আপনাদের হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, মজলুম থেকে জালিম হয়ে উঠিয়েন না। ইতোমধ্যেই আমরা দেখেছি ঢাবিসাস ছাত্রদলের সকল প্রোগ্রাম বয়কট করেছে, আমরাও যদি আপনাদের সব ক্যাম্পাসে বয়কট করি, তাহলে তো অস্তিত্বই থাকবে না।’
চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা ছাত্রদলকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘আপনারা যদি পেশি শক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠ অবরুদ্ধ করতে চান, আমাদের কলম থামিয়ে দিতে চান, তবে একটা কথা মনে রাখবেন আপনাদের পেশি শক্তি যদি হয় পাহাড়ের সমান তাহলে সাংবাদিকদের কলম আকাশের সমান। আপনাদের সকল কর্মকাণ্ড আমরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে তুলে ধরবো।’
হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ কর্তৃক যে তদন্ত কমিটি গঠিত করা হয়েছে, তারা যেন স্বচ্ছতার সাথে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেন, সে বিষয়ে আহ্বান জানান বক্তারা। দৃষ্টান্তমূলক কোনো পদক্ষেপ না নিলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে বয়কট করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় মানববন্ধন থেকে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শাহবাগ থানা চত্বরে সংবাদ সংগ্রহকালে ডুজার সদস্যদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলার পূর্বে কিছু নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও ভিডিও ধারণে নিষেধ করে। পরে তারা সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক আক্রমণ করে। এতে ডুজার সভাপতি মনজুর হোসাইন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম, নাইমুর রহমান ইমন, খালিদ হাসানসহ ১০ সাংবাদিক আহত হয়।
কেকে/এমএ