লালমনিরহাট সদরের বড়বাড়ী এলাকায় দুই দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এ আয়োজন উপলক্ষে এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রায় ২০ ধরনের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ আয়োজন ঘিরে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ছিলেন উৎসবের সমাপনী দিন।
সমাপনী দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতার ফাইনাল। প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন। পাশাপাশি শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠ ও হাবিবা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন গ্রামীণ খেলা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু উৎসব উদ্ভোধন করেন।
ছবি : প্রতিনিধি
সমাপনী দিনে সকালে শুরু হওয়া প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে ছিল কাঁথা সেলাই (যৌথ), চকোর চাল, উচ্চলম্ফ, ঝাঁকি জাল বুনন, লাঠিখেলা, ভলিবল ফাইনাল, ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতাসহ নানা খেলা। দিনব্যাপী এসব আয়োজন উপভোগ করতে সকাল থেকেই দর্শনার্থীরা মাঠে জড়ো হন।
উৎসবের অংশ হিসেবে গ্রামবাংলার সংস্কৃতি তুলে ধরতে ভাওয়াইয়া, ফোক ও পালাগানের আয়োজন করা হয়। রাতের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যান্ডদল গান করে।
নারীরা দর্শনার্থীরা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং শিশু-কিশোরদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করে।’
পুরুষ দর্শনার্থীরা বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে লোকজ খেলাধুলা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করতে ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সহায়ক।’
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলাধুলা ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার কাজ করছে। চেঙ্গুপেন্টি, দাড়িয়াবান্ধা, ঠুস ও চকোর চালের মতো ঐতিহ্যবাহী খেলা ও লোকসংগীতকে টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণে উন্নয়ন, সুশাসন ও জনকল্যাণে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে।’
আয়োজক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান লাভলু বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।’
তিনি জানান, উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন আসাদুল হাবিব দুলু।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়লা হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আসাদুল হাবিব দুলু।