সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
মৌলভীবাজারে নষ্ট হচ্ছে জব্দকৃত বিপুল বনজ কাঠ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বিভিন্ন সময় মূল্যবান সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির চোরাই বনজ কাঠ জব্দ করে বিট ও শ্রীমঙ্গল এসিএফ অফিসের সামনে স্তুপ করে রাখে বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এসব মূল্যবান বিপুল কাঠ মাসের পর মাস পড়ে থাকে উন্মুক্ত অবস্থায়। রোদ-বৃষ্টির ঝাপটা আর দীর্ঘদিন মাটির সংস্পর্শে থাকায় কাঠ পচে নষ্ট হয়ে যায়। স্থান ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে নষ্ট হচ্ছে সেগুলো। এতে করে বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিট ও শ্রীমঙ্গল এসিএফ অফিসের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছের বিশাল স্তুপ মাটিতে পড়ে রয়েছে। রোদ-বৃষ্টির ঝাপটা আর দীর্ঘদিন মাটির সংস্পর্শে থাকায় কাঠ পচে নষ্ট হচ্ছে কাঠগুলো। সেগুলো পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকরী কোনো পদক্ষে চোখে পড়েনি। 

বিন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, মামলা জটিলতার কারণে লাখ লাখ টাকার কাঠ এভাবে নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বন বিভাগের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয় যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখার। স্থান ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার কারণে তা হয়ে ওঠে না। এতে করে এসব কাঠ মামলার জট ছাড়িয়ে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে যে সময় লাগে তাতে নষ্ট হয়ে যায় পচন ধরে। এতে করে বন হারাচ্ছে গাছ আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। কারণ পচে যাওয়া কাঠ সরকারের কোনো কাজেই আসছে না। 

শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়ক সংলগ্ন এলাকায় গেলে চোখে পড়ে বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত অরণ্যাঞ্চল। এ বনভূমির সাড়ে ১ হাজার ২০০ হেক্টর চিরহরিৎ বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। সেখানে রয়েছে সেগুন, চাপালিশ, আগর, পিতরাজ, কড়ই, গর্জন, নাগেশ্বর, জাম, অর্জুনসহ নানা প্রজাতির গাছ। চোরচক্র বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির নজরদারির ফাঁক গলিয়ে হানা দেয় বনে, গাছ চুরির লক্ষ্যে। বন বিভাগের টহল দলের নাগাল থেকে সরে থাকতে নানা সময় বদলায় কৌশল। এসব চোরাই গাছ থেকে পাওয়া কাঠ চড়া দামে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন বাজারে। বিভিন্ন সময় চক্রের সদস্যরা ধরা পড়লেও মূলহোতারা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব চোরাই গাছ বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত কাঠ উদ্ধার দেখিয়ে বন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। উদ্ধার করা কাঠ জব্দ তালিকা করে বিট ও শ্রীমঙ্গল এসিএফ অফিসের সামনে রাখা হয়। 

বন বিভাগসংশ্লিষ্ট অনেকে জানান, অবৈধভাবে কেটে নেওয়া কাঠ উদ্ধার করে জব্দ দেখিয়ে চোরচক্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসব কাঠ মাসের পর মাস পড়ে থাকে উন্মুক্ত অবস্থায়। রোদ-বৃষ্টির ঝাপটা আর দীর্ঘদিন মাটির সংস্পর্শে থাকায় কাঠ পচে নষ্ট হয়ে যায়। মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নিলাম আহ্বান করার আগেই অধিকাংশ কাঠ অকেজো হয়ে যায়। 

লাউয়াছড়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনা বেগম জানান, চোরাই কাঠ উদ্ধার, মামলা ও নিলাম দেওয়া বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। প্রয়োজনে এসব কাজে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি তাদের সহযোগিতা করে থাকে। মাটিতে পড়ে থাকা কাঠ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে সভায় আমি কথা বলব।’ 

লাউয়াছড়া বিট অফিসার মারজুক হোসেন বলেন, ‘বিট অফিসের সামনে পড়ে থাকা সেগুনসহ অন্যান্য কাঠ কতদিন ধরে পড়ে আছে সঠিক তারিখও হয়তো অনেকের মনে নেই। মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিয়মিত নিলাম হচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব কাঠ নিলামে বিক্রি করবেন।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মৌলভীবাজার   নষ্ট হচ্ছে বনজ কাঠ   রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close