সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬,
২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: ৯ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা      সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা      বন্যার কবলে সাত জেলা : নিহত ৫৪, ছয় লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত      আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ৪১৬ বছরপূর্তিতে বর্ণিল ‘ঢাকা উৎসব’, উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী      ১৫ জুলাই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণের নির্দেশ      সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
অপতথ্যে বিব্রত সরকার
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৫ এএম আপডেট: ২৭.০৪.২০২৬ ৯:৫৯ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেড়েছে গুজব ও অপতথ্য। বিভিন্ন ইস্যুতে ভুয়া ফটোকার্ড ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অস্থিতিশীল করা হচ্ছে রাজনীতি, যা কখনো কখনো সাংঘর্ষিক রূপ নিচ্ছে। তবে এসব অপতথ্য রোধ ও গুজব ঠেকাতে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না সরকার। ফলে বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এসব গুজব ও অপতথ্য রোধে অনেকটা ব্যর্থ হচ্ছে সরকার।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক গুজব দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিবির নেতার আইডি থেকে শেয়ার করা হয়েছে।

এ নিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয় উত্তেজনা। পরবর্তী সময়ে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ জানায়, প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া। যে আইডির কথা বলা হয়েছিল, সেখান থেকে এমন কোনো পোস্ট করা হয়নি। কিন্তু ততক্ষণে বিষয়টি ঘিরে ছাত্রদল ও শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে যায়।

অন্যদিকে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে—এমন দাবি করে একটি প্রশ্নপত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’ জানায়, যেটিকে প্রশ্ন ফাঁস বলা হচ্ছে, সেটি আসলে একটি মডেল টেস্টের প্রশ্ন।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত এক নারী ও নবজাতকের মরদেহ ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, গর্ভবতী ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্থানীয়দের খবরে পুলিশ গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। তখন মরদেহ দুটি বস্তাবন্দি ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে। তবে এখনো নিশ্চিত কিছু জানতে পারেনি। ধর্ষণের বিষয়েও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মেডিকেল ও ফরেনসিক রিপোর্ট এলে বিস্তারিত বলা সম্ভব।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের লৌহজং নদীর তীর থেকে মাটিচাপা দেওয়া বস্তাবন্দি অবস্থায় এ অজ্ঞাত এক নারী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, দুর্গন্ধ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচে নারীর চুল দেখতে পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দিলে মাটি খুঁড়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

এরও আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়, ‘ডাকসুর পরাজিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদকে জুতাপেটা দিলেন জনগণ।’ ভিডিওটি জামায়াতপন্থি বেশ কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়। এতে রাজনৈতিকভাবে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওতে আক্রান্ত ব্যক্তি ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম নন। বরং এটি প্রেমিকা বা স্ত্রীকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত একটি মারধরের ঘটনা। ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ডিসেন্ট’ জানায়, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী ওই ব্যক্তির প্রেমিকা নন, স্ত্রী। অন্য একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই যুবক তাকে মারধর করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ ধরনের অপপ্রচারের পেছনে সরকারবিরোধী সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট ইস্যু ধরে প্রচারণা চালায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে দিতে নেটওয়ার্কভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করে।

তাদের মতে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ভুয়া আইডি ও পেজ শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, অপপ্রচারকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, প্রযুক্তিগত নজরদারি জোরদার করা এবং একই সঙ্গে জনগণকে তথ্য যাচাইয়ে সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় সামাজিকমাধ্যমভিত্তিক অপপ্রচার ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  অপতথ্যে   বিব্রত   সরকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close