গাজীপুরের টঙ্গীতে চাঞ্চল্যকর পিতা-পুত্র হত্যার ঘটনায় মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আটককৃত বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য। পরে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, আপন খালাতো বোনকে পছন্দ করতেন সোহান। পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে দেওয়ার কথাও চলছিল। এর মধ্যে ছোট ভাই সাকিবের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ১০ বছরের বড় সেই খালাতো বোনের। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভাইয়ের মধ্যে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
একপর্যায়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে মধ্যরাতে সুযোগ বুঝে সোহান তার ছোট ভাই সাকিবের হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কাপড় গুজে দিয়ে ধারালো ব্লেড দিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর খাট থেকে নিচে নামিয়ে হাত-পায়ের বাধন খুলে দেয় সে। এ সময় পাশের কক্ষে থাকা তাদের বাবা নেশাগ্রস্ত সোহেল দর্জি হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলায় পরিস্থিতি খারাপ হবে বুঝতে পেরে তাকে ধরে নিয়ে বনমালা রেললাইনের পাশে বসিয়ে রাখে সোহান। নেশার ঘোরে তিনি সরে যেতে না পরায় লাইনে ট্রেনের ধাক্কায় পাশে ছিটকে পড়ে তিনি মারা যান।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘সাইফুর রহমান সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে সে তার বাবা ও ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য: রোববার ভোররাতে টঙ্গীর উত্তর বনমালা রোডের নিজ বাসা থেকে সাকিবুর রহমান শোয়েবের লাশ এবং বনমালা রেললাইন থেকে সোহেল দর্জির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
কেকে/এমএ