গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার খিরাটি গ্রামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাজিদ (১৪) কাপাসিয়া উপজেলার ঘোড়াদিয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। সে খিরাটি কামালিয়া রশিদিয়া আশরাফিয়া কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
জানা যায়, ফজরের নামাজের পর থেকে সাজিদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মাদরাসার পাশের পুকুরের পানিতে তার মাথার পাগড়ির সাদা অংশ ভাসতে দেখে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি টের পায়। এরপর তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
উদ্ধারের পর মরদেহ মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে ডিউটি চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানায় পুলিশ।
মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুর সবুর খোলা কাগজকে জানান, মাদরাসার পাশে একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটির চারপাশে আমগাছ আছে। পুকুরটির পানির গভীরতা আনুমানিক ৭–৮ ফুট। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই সকালে সেখানে আম কুড়াতে যায়। ঘটনাদিনেও সাজিদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আম কুড়াতে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্লাস শুরুর সময় তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করা হয় এবং পরে পুকুরে ভাসতে দেখে এক শিক্ষার্থী তাকে খবর দেয়।
তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে বলাৎকারের গুঞ্জন ছড়ালেও প্রাথমিকভাবে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে এতে সম্মতি দেওয়া হয়নি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম খোলা কাগজকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আম কুড়াতে গিয়ে পানিতে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
বলাৎকারের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এ ধরনের জনশ্রুতি থাকলেও পরিবার ময়নাতদন্তে রাজি না হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’’
তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এলএ