মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
পারমাণবিক যুগে দেশ
আলতাফ হোসেন, পাবনা থেকে ফিরে
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৬ এএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষা, নানা চ্যালেঞ্জ ও সময় ক্ষেপণের পর অবশেষে পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গতকাল মঙ্গলবার ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে বিশ্ব পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের তালিকায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এ অগ্রগতির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি ইতিহাসে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাস্তব অগ্রযাত্রা শুরু করল। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি লোডিং হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে শেষ প্রধান ধাপ। এর পরপরই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের মাধ্যমে কয়েকশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউনিট-১ পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে। পরবর্তী ধাপে উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়িয়ে অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় শেষে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ইউনিট-১ পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরো পরীক্ষামূলক উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে, যার মধ্যে নিরাপত্তা যাচাইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্পের সবচেয়ে সংবেদনশীল ধাপের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রেহান আসিফ আসাদ, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, এটি আমাদের আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।’ তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অত্যাধুনিক। নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি ধাপে কঠোরভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পে বহুমাত্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যে কোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম।’ 

এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নয়; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সমন্বয়ে প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের ফলে প্রকল্পটি নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকেও শক্ত অবস্থান অর্জন করেছে।’

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রক ভূমিকার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফটির ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে, যা এ ধরনের প্রকল্প পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি স্বীকৃত অবস্থান অর্জন করছে। তিনি জানান, বৈশ্বিক মহামারি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং নানা অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও প্রকল্পের নির্মাণকাজ একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি; বরং ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে গিয়ে এখন তা সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। 

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটে বর্তমানে পাইপলাইন ও পাম্পিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে এবং আগামী বছরের মধ্যে সেখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়া ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গে লিখাচভ জানান, গত কয়েক বছরে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোসাটমের কোটা অনুযায়ী ৯০০-এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পারমাণবিক বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছে। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে রূপপুর প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ১১০০-এর বেশি দক্ষ বিশেষজ্ঞ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে, যারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এর আগে দিনের শুরুতে রোসাটম প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং এটিকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করছে। গত এক বছরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। তিনি আরও জানান, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ প্রকল্প সফলভাবে পরিচালনা করা যায়।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া 

ঈশ্বরদীর স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনাকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন। রূপপুর গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা ভাবতেই পারিনি আমাদের এলাকায় এমন একটি প্রকল্প হবে।’ তবে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শাহিদা বেগম বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে আরও জনসচেতনতা দরকার। সাধারণ মানুষ এখনো পুরো বিষয়টি বোঝে না।’

১৬৩ অ্যাসেম্বলি  

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি হিসেবে ইউরেনিয়াম-২৩৫ স্বল্পমাত্রায়, সাধারণত ২.৫ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়। এ জ্বালানি ক্ষুদ্র পেলেট আকারে তৈরি করে ফুয়েল রডে ভরা হয় এবং প্রায় ৩১২টি রড একত্রে মিলে একটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি গঠন করে। প্রতিটি অ্যাসেম্বলির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ ফুট। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট-১-এর রিয়্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করা হবে, যা পানি দ্বারা শীতল রাখা হবে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ১৬৪টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান দেশে পৌঁছায়, যা প্রকল্পের প্রস্তুতি ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছে।

ধাপে ধাপে এগোবে বিদ্যুৎ উৎপাদন 

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রিয়্যাক্টরে জ্বালানি প্রবেশ করানো মানেই তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়। এটি একটি জটিল ও ধাপে ধাপে সম্পন্ন হওয়া প্রক্রিয়া। প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিয়্যাক্টরে স্থাপন করা হবে। এরপর রিয়্যাক্টর ফিজিক্স টেস্টিং ও নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া শুরু হবে, যা চলবে আরও প্রায় ৩৪ দিন। পরে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রায় ৪০ দিনের একটি পর্যায় থাকবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ড. মো. শওকত আকবর বলেন, ‘ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে একটি দীর্ঘ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়ার শুরু হলো। প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হবে।’ তিনি জানান, প্রথম ক্রিটিক্যালিটি বা প্রাথমিক পারমাণবিক বিক্রিয়া অর্জনে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।

কীভাবে কাজ করে রিয়্যাক্টর  

রিয়্যাক্টরের ভেতরে ইউরেনিয়াম ডাই-অক্সাইড দিয়ে তৈরি ক্ষুদ্র পেলেট ফুয়েল রডে ভরা থাকে। এসব রড মিলেই তৈরি হয় একটি অ্যাসেম্বলি। ইউনিট-১-এ মোট ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি রিয়্যাক্টর কোর গঠন করবে। এ কোরে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার বিভাজনের মাধ্যমে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘোরায়, যা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

ব্যবহৃত জ্বালানি উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয় থাকে এবং আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তা রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে।

আগস্টে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ  

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী আগস্ট থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। ধীরে ধীরে ইউনিট-১ পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে। দুই ইউনিট মিলিয়ে রূপপুর কেন্দ্র থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০-১২ শতাংশ পূরণ করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হবে।’ IAEA মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ভবিষ্যতের সূচনা।’

দীর্ঘ যাত্রার মাইলফলক  

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ধারণা প্রথম আসে ১৯৬১ সালে। ২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি এবং ২০১৫ সালে নির্মাণ কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তব রূপ পায়। রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, ‘ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে রিয়্যাক্টর জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কাতারে প্রবেশ করে।’

অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রভাব  

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। প্রায় ২,৫০০ স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, আর নির্মাণকাজের সময় ২০-২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেছেন। বছরে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার জ্বালানি ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা সমপরিমাণ বিদ্যুৎ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপাদনের তুলনায় কম।

ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ  

প্রকল্পের ব্যয় ১.১৩ লাখ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ১.৩৯ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মুদ্রামানের পরিবর্তনের কারণে এ ব্যয় বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণ হয়েছে। বর্তমানে ইউনিট-১ এর কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য ডিসেম্বর ২০২৬ এবং ইউনিট-২ এর ডিসেম্বর ২০২৭। পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০২৮ সালের জুনে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  পারমাণবিক   যুগ   দেশ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close