মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৭ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
কূটকৌশলে ছাত্ররাজনীতি ধ্বংসের ছক শিবিরের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
ছবি: খোলা কাগজ

ছবি: খোলা কাগজ

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চর্চার মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ঘিরে ছাত্রশিবিরের বিতর্কিত ভূমিকা সামনে আসার পর সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

তাদের অভিযোগ—ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে নামে-বেনামে সবচেয়ে সক্রিয় সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছে ছাত্রশিবির। সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষাবিষয়ক নানা প্ল্যাটফর্মের আড়ালে তারা নিজেদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে এবং ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে প্রভাব বাড়াচ্ছে। এতে প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ভাষ্য—ছাত্রশিবিরের কৌশল হচ্ছে প্রথমে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হওয়া। তারা বিভিন্ন দাবি আদায়, শিক্ষার্থী অধিকার, আন্দোলন কিংবা ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়। পরে দেখা যায়—যারা এসব কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের অনেকে ছাত্রশিবিরের কোনো না কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী। সময়ের ব্যবধানে তারাই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে উঠে আসে।

একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন—ক্যাম্পাসে সরাসরি রাজনীতি না করার কথা বলে একদিকে সহানুভূতি আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে নেপথ্যে সংগঠন বিস্তার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কোনো আন্দোলন শিক্ষার্থীদের স্বার্থে হচ্ছে, আর কোনটি বিশেষ কোনো সংগঠনের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ, তা বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন—অতীতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকে গোপনে রাজনীতি করলেও বর্তমান সময়ে সেই বাস্তবতা নেই। এখনো যদি কোনো সংগঠন নিজেদের পরিচয় আড়াল করে রাজনীতি করে, তবে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্ররাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা, আদর্শিক অবস্থান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি জবাবদিহি। কোনো সংগঠন যদি নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তবে তা সুস্থ ছাত্ররাজনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়ে এবং ক্যাম্পাসে বিভাজন গভীর হয়।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসগুলোতে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও ‘মব কালচার’ ছড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের দূরত্ব তৈরির পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে তাদের প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন ক্যাফেটেরিয়ার সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন, অধিকাংশ ক্যাম্পাসে শিবিরের মাত্র দুই বা পাঁচ সদস্যের কমিটি থাকলেও তারা সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যে মব হয়েছে, সেখানে ১৫-২০ জনের একটি ঐক্যবদ্ধ গ্রুপ কাজ করেছে। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীর নামে ছাত্রদলকে হেনস্তা করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের বিভেদ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে এটি একটি পরিকল্পিত চাল।’

রাকিবুল ইসলাম রাকিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে যদি এই ধরনের ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলমান থাকে, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট নিরসন হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অব্যাহত অপপ্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাসের পর মাস ধরে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কিছু নেতাকর্মী পাল্টা উত্তর দিলেও আমরা তাদের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়েছি। কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’

তিনি দাবি করেন, ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে ক্যাম্পাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। ছাত্রদল কোনোভাবেই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল হতে দেবে না এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশেই থাকবে।

ইসলামী ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ্য করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘দয়া করে আপনারা গুপ্ত রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসুন। আপনাদের নেতাকর্মীরা যদি কিছু করতে চায়, তবে প্রকাশ্যে করুন। দেওয়াল লিখন বা ছাত্রদলের সমালোচনা—যা-ই করার প্রয়োজন মনে করেন, তা নিজেদের পরিচয় দিয়ে করুন। কিন্তু পরিচয় লুকিয়ে মব সৃষ্টি বা প্রপাগান্ডা চালাবেন না।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ বিভেদের ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে এবং এর সুযোগ নেবে ‘ফ্যাসিস্ট’ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের গুঞ্জন প্রসঙ্গে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কখনোই গোপনে রাজনীতি করেনি এবং করবে না। কিন্তু যেভাবে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা চলছে, তাতে তারা আবারও গুপ্ত অবস্থায় চলে যাওয়ার সুযোগ পাবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, শিবির বর্তমানে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করছে না, মূলত জনগণকে ‘ফাঁসিয়ে দেওয়ার’ জন্য। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবারও নির্যাতনের শিকার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে শিক্ষাঙ্গনে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং ক্যাডারভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শিক্ষার পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলছে, ক্যাম্পাসে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবশ্যই উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হতে হবে।

গত রোববার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এ অবস্থান তুলে ধরেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলেন, গোপন রাজনৈতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে এবং ক্যাম্পাসে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বা অদৃশ্য কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রম শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এমন চর্চা পরিহার করে সব রাজনৈতিক কার্যক্রমকে প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ কাঠামোর মধ্যে আনার আহ্বান জানানো হয়।

ছাত্র জমিয়ত আরও দাবি করে, ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। ফলে ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।

সংগঠনের নেতারা বলেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে হলে সব রাজনৈতিক কার্যক্রমকে উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চর্চা করতে পারে।

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  কূটকৌশল   ছাত্ররাজনীতি   ধ্বংস   শিবির  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close