মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      চীন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
জগন্নাথপুরে অতিবৃষ্টিতে হাওড়ে তলিয়ে গেছে পাকা ফসল
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ে লাগাতার বৃষ্টিতে পাকা বোরো ধান তলিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। 

সরেজমিনে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে দেখা গেছে, নলুয়া, মই, বাগময়না, ভালিশ্রী ও পিংলার হাওড়সহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার।

নলুয়ার হাওড়ের কবিরপুর গ্রামের কৃষক জায়েদ মিয়া জানান, ১৫ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ৫ কেদার ধান তুলতে পেরেছেন, বাকিটা টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারেননি।

মই হাওরের নারিকেলতলা গ্রামের কৃষক ফয়জুল হক বলেন, ধারদেনা করে আবাদ করা বোরো ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। একইভাবে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না গ্রামের কৃষক মামদ আলীও জানান, বর্গা ও ধার করে চাষ করা ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় এখন সংসার চালানো ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ভালীশ্রী গ্রামের কৃষক আশরাফুল হক বলেন, জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে তার অধিকাংশ জমির ধান পানির নিচে। জগন্নাথপুর সদর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, ১০ কেদার জমির মধ্যে মাত্র ২ কেদার ধান কাটতে পেরেছেন; বাকি জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সাবেক সদস্য রনধির দাস নান্টু বলেন, শুরু থেকেই জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে ভুগছিলেন কৃষকরা। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, নলুয়ার হাওড়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক ফসল তুলতে পারছেন না। ইতোমধ্যে বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ বছর উপজেলায় ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে হারভেস্টার মেশিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমিক সংকটও রয়েছে।’ 

তিনি জানান, বাঁধগুলো এখনো নিরাপদ রয়েছে এবং কোথাও ভাঙনের ঝুঁকি নেই। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এগিয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close