বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করতোয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন ফতেহ্ আলী সেতুর পুনঃনির্মাণ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। বারবার সময়সীমা বাড়িয়েও কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চার উপজেলার অন্তত ১২ লাখ মানুষ। দ্বিতীয় দফায় নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও প্রায় ১০ মাস ধরে সেতুর গুরুত্বপূর্ণ কাজ ঝুলে আছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেতুটি পরিত্যক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ১৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২৪ সালের মে মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সেই সময়সীমাও অনেক আগেই শেষ হয়েছে, তবুও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর প্রায় ৮৭ শতাংশ ভৌত কাজ শেষ হলেও এখনো রেলিং ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ বাকি রয়েছে। সেতুর ওপর অস্থায়ীভাবে বাঁশের ঘেরা দিয়ে রাখা হয়েছে, যা পথচারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে; এমনকি হোঁচট খেয়ে নদীতে পড়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
চেলোপাড়া এলাকার বাসিন্দা অনিমেষ রায় বলেন, “এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। আগে এখানে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকো ছিল। এখন সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ কমেনি।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আজমল হোসেন জানান, ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো এবং অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করে সেতুর কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক বলেন, “৩১ জুলাই ২০২২ সালে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্তমানে ভৌত কাজের অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ শতাংশ। চুক্তিমূল্য অপরিবর্তিত রেখেই অবশিষ্ট কাজ, বিশেষ করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ, আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
স্থানীয়দের মতে, বগুড়া শহরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সেতু। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ ঝুলে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মানুষজন।
কেকে/এলএ